বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১২তম চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

বৃহস্পতিবার তিনি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

আবদুল মান্নান ১৯৭৩ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে বিভাগের সভাপতি, অনুষদের ডীন, সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, বোর্ড অব এডভান্সড স্টাডিজ, ফাইন্যান্স কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮৯ সালে তিনি বিশ্ব ব্যাংকের ফেলোশিপ নিয়ে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর উচ্চতর গবেষণা করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিল ফেলোশীপের অধীনে চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা প্রশাসনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

অধ্যাপক মান্নান পর পর দু’বার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, একবার সভাপতি এবং বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ওই পদে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি ইউজিসি’র খণ্ডকালীন সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮-৯৯ মেয়াদে তিনি অধ্যাপক শামসুল হক শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। আবদুল মান্নানের ত্রিশটির মতো আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রকাশনা রয়েছে। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংক গোল্ড মেডেল এবং একই বছর তিনি ইউনোস্কো পুরস্কারে ভূষিত হন। বর্তমানে তিনি দেশে ও দেশের বাইরে ৬টি জাতীয় দৈনিকে সমসাময়িক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত মন্তব্য প্রতিবেদন লেখেন।

এদিকে ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউজিসি কর্মচারী ইউনিয়ন যৌথভাবে ইউজিসি’র বিদায়ী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর ৪ বছর মেয়াদ পূর্তিতে এক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ইউজিসি অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ওমর ফারুখ।

এতে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান, প্রফেসর ড. আবুল হাশেম এবং প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বিভাগীয় প্রধানগণসহ কমিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প ও বিডিরেনের সকল কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

জেডআই