শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘খুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থী সম্মেলনে অংশ নেয়। তারা ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন করে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষণা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে শুরু হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। খুদে গবেষকেরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, পরিবেশ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের চারপাশের সমস্যা নিয়ে কাজ করেছে। এসব সমস্যা সমাধানে তারা নিজেদের চিন্তাশক্তি ও হাতের কাছে থাকা উপকরণ ব্যবহার করেছে।

গবেষণার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাহস, উদ্দীপনা, অনুসন্ধিৎসু মনোভাব ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সমাধানের পথ খোঁজার সক্ষমতাই গবেষণার মূল বিষয়।

দেশের গবেষণা কার্যক্রমের প্রসঙ্গে অধ্যাপক মামুন বলেন, গত পাঁচ দশকে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গবেষণায় বিপুল অর্থায়ন করেছে। অনেক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং গবেষকদের সাইটেশনও হয়েছে। কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি।

তিনি বলেন, গবেষণাপত্র তৈরি হয়েছে, আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, সাইটেশনও হয়েছে। কিন্তু মানুষের যে বাস্তব সমস্যা, অনেক ক্ষেত্রে সেই সমস্যা থেকেই গেছে।

এ কারণে গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। দেশের সুনির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে গবেষণা করার ওপর জোর দেন তিনি।

অধ্যাপক মামুন বলেন, গবেষকেরা সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব করলে ইউজিসি তা অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে। গবেষণার ফলে বাস্তবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

দেশের যানজট, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও লবণাক্ততার মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসতে হবে। আজকের খুদে গবেষকদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বিজ্ঞানী তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

খুদে গবেষকদের উদ্দেশে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, তোমরাই আমাদের চারপাশের সমস্যার সমাধান করবে।

সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

চিন্তার চাষের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, খুদে গবেষক, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

চিন্তার চাষ একটি স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলা ও গবেষণাচর্চার পরিবেশ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।

এমএম