'সন্তান অবৈধ হলে এর জন্য ওই সন্তান দায়ী নয়, দায়ী তার মা-বাবা। প্রশ্নপত্র যদি ফাঁস হয়ে থাকে- সে দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, শিক্ষার্থীদের নয়। তাহলে শিক্ষার্থীরা কেন সাজা পাবে?'

শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়া 'এফ' ইউনিটের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন একই ইউনিটের ছাত্র শুভম গোস্বামী ধ্রুব।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, 'প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হোক- এটা আমরাও চাই। কিন্তু গুটিকয়েক মানুষের জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ কেন নষ্ট হবে?'

অবিলম্বে 'এফ' ইউনিটের ভর্তি বহাল করা না হলে একযোগে দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন দেয়া হয়েছে। আমরা রুটিন মোতাবেক প্রতিদিন ক্লাসে আসতাম, আমাদের রোল ডাকা হত। স্যাররা ক্লাসে আমাদের বই কিনতে বলেছিলেন, আমরা অনেক বই কিনেছি। আমাদের ক্লাস টেস্টের তারিখ দেয়া হয়েছে, আমরা আমাদের একাডেমিক পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। গত ৬ মার্চ হঠাৎ করেই সিন্ডিকেট আমাদের ১০০ জনের ভর্তি বাতিল করে দেয়।'

তারা বলেন, 'নির্দোষ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা না করেই পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দীর্ঘ এক থেকে দুবছর কঠোর পরিশ্রম করেও যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া অনেক কঠিন, সেখানে মাত্র সাত দিন প্রস্তুতি নিয়ে আমরা কিভাবে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাব?'

একই ইউনিটের ছাত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, 'আমরা প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েছিলাম। অথচ আজ আমাদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। আমরা আর কোথাও উচ্চশিক্ষা নিতে পারবো না।'

তিনি বলেন, 'আমাদের এই দুরাবস্থা শুনে অনেক অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমাদের আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।'

হেমায়েত কবির হোসেন নামে ওই ইউনিটের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমরা ভর্তি বহাল রাখার দাবিতে ভিসি স্যারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে গেলে প্রক্টর স্যারের পি এস স্মারকলিপি জমা নেন। এমনকি প্রক্টর স্যার আমাদেরকে ক্যাম্পাস থেকে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে বের করে দেন।'

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অভিভাবক শাহিনুর রহমান জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কতিপয় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী যাদের নাম তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। নির্বিচারে নির্দোষ শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করাটা অমানবিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন মহলের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সঙ্গে 'এফ' ইউনিটে ভর্তি হওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীরা নাম উঠে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি করে 'এফ' ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পেলে গত ৬ মার্চ সিন্ডিকেটের সভায় ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে দেয়।

এরই প্রেক্ষিতে ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের আইনানুগ ব্যবস্থা ও নির্দোষদের ভর্তি বহাল রাখার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়া 'এফ' ইউনিটের শিক্ষার্থীরা।

তারা জানান, ভর্তি বহাল না করা পর্যন্ত তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। এর অংশ হিসেবে আগামী শনিবার তারা কুষ্টিয়া শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।

এসময় সমস্যা নিরসনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আর জানানো হয়, আন্দোলন কর্মসূচির পাশাপাশি হাইকোর্টে রিট করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জারিফ