কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তিনজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে সাদা গাড়িতে করে তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরা তিনজন হলেন, রাশেদ খান, ফারুক হোসেন ও নূর হোসেন। তিনজনই বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের আগেই তারা ঢাবি ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসান আল মামুন বলেন, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে হলে খেতে যাওয়ার সময় তাদেরকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। আমরা সংবাদ সম্মেলনর পরপরই বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলাম যে, ক্যাম্পাসে ডিবি পুলিশ ঢুকেছে। তাই আমি তাড়াতাড়িই চলে আসি। কিন্তু ওদেরকে তুলে নিয়ে গেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

এর আগে বেশ কিছু দিন ধরে তারা কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন। যদিও এ ব্যাপারে এখনও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা প্রজ্ঞাপন জারি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন।
এদিকে, আজ সোমবার দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা দুই দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনেরও হুমকিও দেয় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর হোসেন বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন করায় আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছে। দাবি সত্ত্বেও তা প্রত্যাহার হয়নি। আগামী ২ দিনের মধ্যে সব মামলা প্রত্যাহার না হলে ছাত্রসমাজ আবার আন্দোলনে নামবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। এটি সহ্য করতে না পেরে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত বানানোর অপপ্রচারে নেমেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশকে অস্থিতিশীল করতেই তারা এ চক্রান্ত করছে।’

নূর হোসেন আবারও দাবি করেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী হামলা করেনি। বরাবরের মতোই আমরা এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বলছি- আমি বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহাম্মদ মহসীন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আমার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

আন্দোলনের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘ছাত্রশিবির বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি জাতীয় দৈনিক মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছে। তারা লিখেছে, আমি সূর্যসেন হলে ২০১২ সালে ছিলাম। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ভর্তিই হয়েছি ২০১৩ সালে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সেটিই করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণার দেয়ার পরই আমরা আন্দোলন থেকে সরে গেছি। অথচ আমাদের বিএনপি-জামায়াত বানানো হচ্ছে। ছাত্রসমাজকে বিতর্কিত করা হচ্ছে, এর চেয়ে আর লজ্জার কি আছে!’ সূত্র : পরিবর্তন