ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনকে বরণ করতে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশ উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে।
এসব কর্মসূচী ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ সকলের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে থেকে বিশ্ব বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বর্ষবরণের কর্মসূচী শুরু হয়। উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন এ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।
এসময় উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহানসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর চারুকলা বিভাগ, নাট্যকলা, বাংলা, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, দর্শন, সঙ্গীত, ভূ-তত্ব ও খনি বিদ্যা, ইসলামের ইতিহাস, মার্কেটিং, নৃ-বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, লোক প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে বর্ষবরণের র্যালী বের করা হয়। র্যালী শেষে প্রায় প্রতিটি বিভাগে বাঙালির ঐতিহ্যবাহি খাবার পান্তা-ইলিশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো চত্বরে চত্বরে প্রদর্শনীমূলক স্টল দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসকে যেন এক নতুন রুপে সাজিয়েছে। নতুন নতুন বাহাড়ি রঙের পোশাকে তরুণ-তরুনিদের মাঝে আনন্দের উচ্ছাস দেখা যায়। বাংলা বছরের প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটরিয়া, সিলসিলাসহ ক্যান্টিনগুলোতে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ধুম পড়েছে। সব মিলিয়ে মতিহারের সবুজ চত্বর যেন আজ প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল্লাহ সাইফের নেতৃত্বে কর্মরত সাংবাদিকরাও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে। সকালে প্রেস ক্লাব চত্বরে বেলুন ফটানো, হাড়ি ভঙ্গাসহ একাধিক খেলার আয়োজন করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. হাছানাত আলী, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানাসহ ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও শহরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
জেএ





