‘ফাও খাওয়া’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ক্ষমতাধর ছাত্রনেতাদের কাছে এক জনপ্রিয় শব্দ। হর-হামেশাই ফাও খাওয়ার বিষয়ে কতৃপক্ষ এবং ছাত্রনেতাদের মাঝে মনমালিন্য দেখা দেয়। এই ফাও খাওয়া সমস্যা সমাধানে জবিতে ছাত্রনেতাদের সাথে বৈঠকে বসেছেন কতৃপক্ষ। এতে উপাচার্যের কাছ থেকেই আসে চমক। তিনি দিয়েছেন ফাও খাওয়ার নতুন নাম। তিনি বলেছেন, ফাও খাওয়া নয়, এখন থেকে বলতে হবে 'বাকীতে খাওয়া'।
সোমবার দুপুর দেড়াটায় ক্যান্টিন সঙ্কট নিয়ে ছাত্রনেতাদের সাথে বৈঠকে এ পরামর্শ দেন উপাচার্য।
জবি উপাচার্যের সভাপতিত্বে ‘উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে’ অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছাত্রলীগ,ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন,জাসদ ছাত্রলীগ,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট দুই অংশের প্রতিনিধি সহ ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জবির বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রিত অবকাশ ভবনের ক্যান্টিনের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আল আমিন সরদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে ভর্তুকি দেওয়ার পরও আশেপাশের রেসট্যুরেন্টের চেয়ে বেশী দামে বিক্রি করা হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খাবার মান নিম্ন মানের বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসাথে ক্যান্টিনে দু লিটার কোকাকোলা ৯০ টাকা দিয়ে কিনে ১৬০ টাকা বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন আলআমিন।
এমন অভিযোগের বিষয়ে জবি উপাচার্য এ ধরণের অভিযোগের বিষয়ে সাথে সাথে ক্যান্টিন পরিচালক আমজাদ হোসেনের কাছে জানতে চান, আপনার ক্যান্টিনে এমন হয় কি না ?
তখন আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের ক্যান্টিনে প্রতিদিন দুশ জন লোক ‘ফাও খায়’। তার ফলে আমাদের ক্ষতি হয়। কোকাকোলা আমরা প্রতি ছোট গ্লাসে দশ টাকায় বিক্রি। গ্লাস সহ দু লিটার কোকাকোলা আমাদের ১৩৬ টাকা কেনা পড়ে।
এ বিষয়টি প্রতিবাদ করেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভদ্র বলে আপনি আমজাদ সাহেব ৯০ টাকার কোকাকোলা ১৬০ টাকায় বিক্রি করার দুঃসাহস দেখান।
তবে আমজাদের বক্তব্যটি সমর্থন কলে জবি ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, এরকম আমিও অভিযোগ পেয়েছি । যে সকল ছাত্র নেতা ক্যান্টিনে ফাউ খায় তারা এ বেঠকেও উপস্থিত আছেন।
ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম স্পষ্ট করে সেসব ছাত্রনেতার নাম জানতে চান ? তখন জবি উপাচার্য সিরাজুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নাম বলার দরকার নেই,আমরা সেসব নাম পাব।
উপাচার্য বলেন, নিঃসন্দেহে ফাও খাওয়া বিষয়টি নিন্দনীয় ও দুঃখ জনক । একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে কি করে ক্যান্টিনে ফাও খায় ? তিনি সকলকে বলেন, বিষয়টি এরপর থেকে ফাও খাওয়া না বলে, বলতে হবে বাকীতে খায়! তিনি এসব ছাত্রদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে শেষ পর্যন্ত জবি প্রশাসন স্বীকার করেন, ছাত্রনেতা ও শিক্ষককরা ক্যান্টিনে ‘ফাও খায়’ ।
বৈঠকে ছাত্র নেতাদের আলোচনায় জবি প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা ছাত্রদের ও ক্যান্টিনের মালিক পক্ষের অভিযোগ শুনেছি । যা দুপক্ষের অভিযোগে অসঙ্গতি আছে বলে মনে করি। তিনি ক্যান্টিনে ‘ফাও খাবা’র বিষয়টি আমলে নেন । তিনি বলেন, আমি প্রক্টরের দায়িত্ব নেবার আগে আমার দপতরেই প্রতিদিন পঁচিশ প্যাকেট ক্যান্টিনের খাবার ‘ফাও খাওয়া’ হত। প্রসঙ্গত, জবি প্রক্টর নূর মোহাম্মদের পূর্বে এ পদের দায়িত্বে ছিলেন, জবি মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অশোক কুমারা সাহা।
বৈঠক শেষে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সরেজমিন পরিদর্শন করে দুই সপ্তাহের মধ্যে করণীয় সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সাথে সহযোগী হিসাবে ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ, সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল থাকবেন বলেও উপাচার্য নির্দেশনা দেন।
তবে প্রতিবেদন জমা দিতে জবি উপাচার্যের কাছে ট্রেজারার সেলিম ভূইয়া দু মাস সময় চেয়েছেন।
নাজমুল/জারিফ





