রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১০ জন । এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে দুটি হল।

শনিবার দুপুরে ডাইনিং রুমে খাবার নিয়ে সভাপতি ও সম্পাদকের পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ কমপক্ষে ২০ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ মুখতার এলাহী হলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ছাত্রলীগের উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে খাবার নিয়ে ডাইনিং রুমে বোরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাসেলের সঙ্গে শুভ নামে ছাত্রলীগের আরেক নেতার কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের দুপক্ষের মধ্যে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্রসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
প্রায় দুঘণ্টাব্যাপী এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংর্ঘষ চলে। এতে রাসেলসহ দুপক্ষের ১০ জন আহত হয়। আহত রাসেলকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ কমপক্ষে ২০ কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নুর উন নবী বলেন, ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি হলের প্রক্টর ও সহকারী প্রভোস্টকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি এবং পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।

বেরোবি ক্যাম্পাস পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম দুপক্ষের সংঘর্ষের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রথমে ছাত্রলীগের দুই নেতার সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান শিশির জানান, ক্যাম্পাসে যারা গ-গোল করেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ না; শিবিরের সঙ্গে তারা যুক্ত। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।

বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহামুদও ভাঙচুর ও ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এমএম