মো. আলমগীর টিপুকে সভাপতি এবং ফজলে রাব্বি সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রবিবার এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
টিপু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারি হিসেবে পরিচিত।
২০১৩ সালের ২৪ জুন নগরীর সিআরবিতে দরপত্র নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের মধ্যে দুই খুনের মামলার আসামি টিপু।
যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের অনুসারিদের মধ্যে ওই সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী সাজু পালিত ও আরমান হোসেন নামে এক শিশু নিহত হয়।
সেদিন ছাত্রলীগ নেতা লিমনের পক্ষে টিপু ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের দাবি। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একদিনের রিমান্ডেও নিয়েছিল কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে ৫০ দিন জেলহাজতে থাকার পর ওই বছরের ৪ আগস্ট টিপু জামিনে বেরিয়ে আসেন।
লিমন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
জোড়া খুনের ওই মামলাটি এখনো তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম।
জোড়া খুন ছাড়াও আলমগীর টিপুর বিরুদ্ধে নিয়মিত ছাত্রত্ব না থাকা, সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি, সহিংসতা ও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পারিবারিক যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।
জোড়া খুন সম্পর্কে আলমগীর টিপু বলেন, ‘বাবরের সঙ্গে লিমন ভাইয়ের গোলাগুলি হয়েছে শুনে দেখতে গিয়েছিলাম। পরে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে।’
ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। সেটি থাকলে মারামারির সময়ই গ্রেপ্তার করতে পারতো। আমিতো আরো দুই ঘণ্টা পর নগরীর পলোগ্রাউন্ড থেকে গ্রেপ্তার হয়েছি।’
আলমগীর টিপু বলেন, ‘আমি একজন রাজনীতিক। রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা হরহামেশায় হয়। এসব রাজনৈতিক মামলা নিয়ে অত চিন্তিত নই।’
এসব ছাড়াও আলমগীর টিপু বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক দফা বহিষ্কার হয়েছেন। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ অক্টোবর আলমগীর টিপুকে ছয় মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলমগীর টিপুকে অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তার শ্রেণির পরীক্ষা দিতে না দিলে ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তার অনুসারিরা পরীক্ষার হলে তালা দেন।
পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে তালা ভাঙে এবং আলমগীরকে পরীক্ষায় অংশ দিতে বাধ্য হন।
অপর এক সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর টিপুকে ছাত্রলীগ থেকে এক মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল।
সব মিলে খুন, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ঘটনায় আলমগীর টিপু ছাত্রলীগ থেকে দুবার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুবার বহিষ্কার হয়েছেন এবং দুবার জেলে গেছেন।
এর মধ্যে ২০১২ সালে যৌন হয়রানির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় চার ছাত্রলীগকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।
এই চারজনের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর টিপু।
তবে আলমগীর টিপুর দাবি, ‘সিন্ডিকেট সভার তথ্যকে বিকৃত করে কয়েকটি গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে ভুল প্রতিবেদন ছাপিয়েছিল। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সে সময়ে এর প্রতিবাদ করেছেন।’
আলমগীর টিপুর বাড়ি নগরীর বায়েজিদ এলাকায়। তার পরিবারের সদস্যরা জামায়াত ঘনিষ্ঠ বলেও এলাকায় প্রচার আছে।
বলা হয়ে থাকে ২০০০ সালে নগরীতে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের ঘটনায় টিপুর বড় ভাই হাজি মো.আইয়ূব জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে আলমগীর টিপু বলেন, ‘আমার ভাইয়ের নাম এইট মার্ডারের এজাহার কিংবা চার্জশিটের কোথাও নেই। আর আমার পরিবার জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এটা কেউ প্রমাণ করতে পারলে আমি মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
এদিকে, আলমগীর টিপুর নিয়মিত ছাত্রত্বও নেই। অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে তিনি ছাত্রত্ব হারিয়েছেন।
বিষয়টি স্বীকার করে টিপু বলেন, ‘আমার ছাত্রত্ব আছে, তবে নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই।’
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক সুজন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারি হিসেবে পরিচিত। তিনি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
২০১১ সালের ২৫ জুন মামুনুল হক ও এমএ খালেদ চৌধুরীকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি হয়েছিল। কোন্দলের কারণে গত বছরে জুনে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এমকে





