বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক শিক্ষক। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি দাবিতে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

 

পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে ছাত্রলীগও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

জানা যায়, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি হওয়ার পর বুয়েটের শিক্ষার্থীদের ফেসবুকের ফান পেজ ‘আড়ি পেতে শোনা’য় কয়েকজন শিক্ষার্থী স্ট্যাটাস দেন। এতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. জাহাঙ্গীর আলম মন্তব্য করেন। যা হিন্দু ধর্মের প্রতি কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওই গ্রুপের কিছু শিক্ষার্থীর।

 

পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কিছু শিক্ষার্থী এটি নিয়ে কথা বলতে বলতে গতকাল ওই শিক্ষকের রুমে যান। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাটির একপর্যায়ে ওই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বুয়েট ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

জানতে চাইলে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক বলেন, ফেসবুকের স্ট্যাটাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এমন অভিযোগে কিছু শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের রুমে যান বলে শুনেছি।

 

পরে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে বিক্ষোভ চলার সময় সেখানে অনেক শিক্ষার্থী জড়ো হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতা বিষয়টি জানতে সেখানে যান। তবে শিক্ষকের রুমে কেউ যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

ঘটনার বিষয়ে জানতে বুয়েটের শিক্ষক ড. জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তিনি তা কেটে দেন।

 

এ ঘটনার পরে বিকেল ৪টায় জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। সেখানে শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

 

একই সাথে সভায় উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ আগামী শনিবার পর্যন্ত কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না হলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়াসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তারা সিদ্ধান্ত নেন।

 

জানতে চাইলে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাসিব চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনা শোনার পরপরই জরুরি সভা করে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শনিবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

 

বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. খালেদা একরাম বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি শোনার সাথে সাথেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে তদন্ত কমিটির সদস্য কারা সে বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

 

ইআর