ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা কর্ণারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীসহ বিশেষ কোটার প্রকাশিত ফলাফলে পছন্দের প্রার্থীদের নাম না থাকায় কোটার আহ্বায়ক এবং হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরীনের কক্ষ ভাংচুর করেছে তারা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে তাদের কর্মীরা এসব কাজ করে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষদে গিয়ে উচ্চ আওয়াজ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরলে নতুন শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি করতে থাকে।
গত ১৪ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে মুক্তিযোদ্ধা কর্ণার স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশে জরুরী ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কর্ণারের জন্য কেন্দ্রীয় মাসজিদ প্রাঙ্গনে নতুন আসবাব পত্র তৈরী করা হচ্ছিল।
প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এক দল ছাত্রলীগ কর্মী সেখানে যায়। এসময় মুক্তিযোদ্ধা কর্ণারে কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে হয়নি অভিযোগ এনে কাজ বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে দলীয় টেন্ট থেকে দল বেঁধে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে যায় ছাত্রলীগ। সেখানে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কোটার আহ্বায়ক এবং হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরীনের কক্ষে ভাংচুর চালায়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা কোটায় ভর্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ অনে। অভিযোগ আছে, প্রথম থেকেই ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের পক্ষথেকে কোটায় তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু কোটায় ভর্তিতে স্বচ্ছতার প্রশ্নে কমিটি অনড় অবস্থান নেয়। এ কারণে ছাত্রলীগের পছন্দের প্রার্থীরা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী হওয়ায় প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ পরে তারা।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা দলবেঁধে উচ্চ আওয়াজ তুলে অনুষদ ভবন হয়ে প্রশাসন ভবনে যায়। প্রশাসন ভবনের ভেতরে উচ্চ আওয়াজ করলে কর্মকর্তারা কাজ ফেলে ভবনের বারান্দায় বেরিয়ে আসে। সেখান থেকে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবন হয়ে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনে প্রবেশ করে। এসময় ডিন অফিস ও গণিত বিভাগের সভাপতির কক্ষের সামনে হৈ-হুল্লা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এরপর দল বেঁধে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় যায় তারা। সেখানে প্রশাসনের নির্দেশে শুকনো গাছ কাটা হচ্ছিল। কিন্তু টেন্ডারের মাধ্যমে না হওয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীরা গাছ কাটাও বন্ধ করে দিয়ে আসে।
ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মীদের সাথে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে কেউ ভাংচুর করেছে বলে আমি শুনি নাই।
কোটার আহ্বায়ক শেলীনা নাসরীন বলেন, ‘শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে যোগ্যতার ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সকল প্রার্থীই আমারদের কাছে সমান। আমার কক্ষ ভাংচুরের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশানকে জানানো হয়েছে।’
হিমেল/জারিফ





