বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত তিন বাংলাদেশি নাগরিকের গায়েবানা জানাজা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই গায়েবানা জানাজা সম্পন্ন হয়।
এর আগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় শতাধিক নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।
‘বাংলাদেশের নাগরিকগণ’র ব্যানারে জানাজা কর্মসূচির পূর্বে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নওগাঁর পোরশা সীমান্তে বিএসএফের ছোঁড়া গুলিতে তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এসময় বক্তারা স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ কর্তৃক খুনের প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি তারা সীমান্তে খুনের পেছনে দেশের সরকারের অবহেলাকে দায়ী করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাবি শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ৫ লক্ষাধিক মানুষ বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ ভারতীয়রা এদেশে চাকরি করে দেশ থেকে অর্থ নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় ভারত আমাদের মেরুদণ্ডহীন সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে চুক্তি করেছে। সেসব চুক্তিতে ভারত ষোলআনা সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের সামনে মুলো ঝুলিয়ে দিয়েছে।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকে বার বার প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জনসহ চলতি (জানুয়ারি-২০২০) মাসেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বছরজুড়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১৪ জন। সেখানে ২০২০ এর প্রথম মাসেই ২০১৮ এর সারা বছরের সীমান্ত হত্যার সংখ্যার চেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী- বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন বাংলাদেশি। এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে প্রায় তিনগুণ দাঁড়ায়। এরমধ্যে আজ নওগাঁয় তিনজন এবং যশোরের বেনাপোল সীমান্ত একজন বিএসএফের হাতে নিহত হন। এছাড়া গতকাল লালমনিরহাটে নিহত হন দু’জন।
এমবি





