অভিজিৎ হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়(রাবি) প্রগতিশীল ছাত্রজোট আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে বাধাঁ প্রদান করে রাজশাহীর মতিহার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার রকিবুল আলম খান বলেন, রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ছাড়া আর কেউ মিছিল করতে পারবে না।’

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় টুকিটাকি চত্বরে একথা বলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর উদ্যোগে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় টুটিটাকি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টুকিটাকি চত্বরে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করতে চাইলে সহকারী কমিশনার রকিবুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাধাঁ প্রদান করে। এসময় রাবি ছাত্রফ্রান্টের অর্থ সম্পাদক তাসনোভা তাহরিন অন্তরা মেবাইলে ছবি তুলতে গেলে এ এসপি আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেবাইল কেড়ে নিতে যায়। তখন ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফারুক ইমন ও ছাত্রফ্রাণ্টের সভাপতি সেহরাব হোসেনের সাথে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়।

বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ফারুক ইমনকে সহকারী কমিশনার আলম একদিকে টেনে নিয়ে মিছিল বন্ধ ও ছবি ডিলেট করতে বলে। অন্যথায় তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, মিছিল বন্ধ ও ছবি ডিলেট না করলে আটক করতে বাধ্য হব। পরে আপনাকে জটিল সমস্যায় পড়তে হবে।

এসময় পুলিশ উদ্দেশ্য করে প্রগতিশীল জোটের নেতারা বলেন, ছাত্রলীগ মিছিল-সমাবেশ করতে পারবে, আমরা কেন পারবো না? এমন প্রশ্নের উত্তরে সহকারী কমিশনার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ছাড়া কেউ মিছিল করতে পারবে না।’

রাবি ছাত্রফেডারেশনের সভাপতি ফারুক ইমন বলেন, ‘অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ পণ্ড করার জন্যই তারা বাধাঁ দিয়েছে। অথচ একই সময় ছাত্রলীগ মিছিল করলেও পুলিশ তাদের বাধাঁ দেইনি, বরং সহযোগিতা করেছে। পুলিশের এই ধরণের অগণতান্ত্রিক আচারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রগতিশীল জোটের নেতা-কর্মী অভিযোগ করেছে, আমরা বিষয়টি দেখছি।’

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. তারিকুল হসানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।’

এসএইচ