জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হল (সম্প্রসারিত) ভবনের ৪৪ তম আবর্তনের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়েছে হলটির ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। সোমবার রাত ১২ টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত হলের অতিথি কক্ষে মারধরের এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে আল-বেরুনী হল (সম্প্রসারিত ভবন) শাখা ছাত্রলীগ কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৪৪ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের সাথে সোমবার রাত ১২ টার দিকে হলের ‘অতিথি কক্ষে’বসে ৪২ তম আবর্তনের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

এসময় কর্মসূচিতে যারা অনুপস্থিত ছিল তাদের মধ্যে আল-আমিন (ফার্মেসী) নামের এক শিক্ষার্থীকে দাড় করিয়ে বাবা-মায়ের নাম তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় তাকে অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেয় হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ (আইআইটি- ৪২ তম আবর্তন)। ‘বক্তব্যে বেয়াদবি’আছে উল্লেখ করে প্রথমে আল-আমিনকে তার সহপাঠীদের সামনে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে আরিফ।

এরপর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাসিব (আইআইটি), কর্মী সোহান (অ্যাকাউন্টিং), রাজু (পরিসংখ্যান), পারভেজ (প্রতœতত্ত¡), জাহিদ (পদার্থ), সাইফুল ইসলাম (পরিসংখ্যান), মেহেদী হাসান (পরিসংখ্যান) এবং ফরহাদ হোসেন (পরিসংখ্যান) আল-আমিনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সবাই ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। এসময় লেখাপড়া.কমের জাবি প্রতিনিধি (৪৪তম আবর্তনের) শিক্ষার্থী ইমনের (দর্শন) কানে থাপ্পর মারলে সে বেহুশ হয়ে যায়। এরপর তার সহপাঠীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামান্য শান্ত হলেও পরবর্তীতে হলের সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত না করে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন।  

এ ঘটনার পর জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসিনুর রহমান শামীম (নৃবিজ্ঞান, ৩৬ তম আবর্তন), উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক বিষয়ক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (দর্শন, ৩৯ তম আবর্তন) ও সহ-সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের (ইংরেজি, ৩৯ তম আবর্তন) নেতৃত্তে¡ ৪৪ তম আবর্তনকে ‘বেয়াদব’আখ্যা দিয়ে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে লাঠি ,স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। এসময় শামীম ৪৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের দিকে স্যান্ডেলও ছুড়ে মারে।  

বেধড়ক মারধরের শিকারদের মধ্যে আল-আমিন (ফার্মেসি), ইমন(দর্শন), আরাফাত (ফার্মেসি), গাজ্জালি( দর্শন), সাইফ( আইন ও বিচার), সৌরভ (ফার্মেসি), মেহেদী (সিএসই), হাসান (সিএসই) এবং দীপ্ত (অর্থনীতি) এদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আল-বেরুনী হলের প্রভোস্ট এ কে এম জসীম উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, হাসিনুর রহমান শামীমের ছাত্রত্ত¡ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির জন্য তদবির করছে।

এম আর