ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে নতুন বিভাগ খোলা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ভর্তি কমিটির সদস্যরা। ভর্তি কমিটির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিরুদ্ধে একক সিদ্ধান্তে নিয়মবহির্ভূত ভাবে নতুন বিভাগ খোলার অভিযোগ এনেছেন। একইসঙ্গে দু'টি অনুষদের ডিন এবং ছয়টি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ ভর্তি কমিটির ১১ জন সদস্য লিখিত নোট আব ডিসেন্টি দিয়ে ভিসি গৃহিত একক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেছেন।
এছাড়াও এর প্রতিবাদে একটি বিভাগের চেয়ারম্যান ভর্তি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এনিয়ে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অশান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা। কেউ কেউ এই আন্দোলন ভিসি পতনের আন্দোলনে রুপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিকে ক্যাম্পাস অশান্ত হলে ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা যায়, একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা না করেই ভিসি একক সিদ্ধান্তে মার্কেটিং, ফোকলোর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নামে নতুন তিনটি বিভাগ খোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন এবং রাতারাতি তিনটি বিভাগের সভাপতিও নিয়োগ দেন। উল্লিখিত তিনটি বিষয়ের মধ্যে ফোকলোর বিভাগের কথা স্টাটিউটে উল্লেখ নেই।
শনিবার অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির দ্বিতীয় সভায় নতুন বিভাগ খোলার বিষয় আলোচনায় আনা হয়। সভায় নতুন তিনটি বিভাগ খোলায় অনিয়ম হয়েছে এই মর্মে ভর্তি কমিটির সদস্যরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। শিক্ষকদের আপত্তি সত্বেও ভিসি নিয়ম বহির্ভূতভাবে গৃহিত সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এদিকে নতুন বিভাগ খোলার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে ভর্তি কমিটির এগার জন সদস্য লিখিত ভাবে উক্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেন।
নোট আব ডিসেন্টে উল্লেখ করা হয়- আমরা গভীর ভাবে লক্ষ করেছি আপনি (ভিসি) বিধি বহির্ভূতভাবে নতুন তিনটি বিভাগ খুলেছেন এবং ইতোমধ্যে সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিভাগ খোলার পক্ষে। তবে আপনার সাম্প্রতিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্ট এবং স্টাটিউট বহির্ভূত হয়েছে বলে আমরা মনে করি। উপর্যুক্ত বিষয়ে আমরা দীর্ঘক্ষণ যুক্তি প্রদর্শনপূর্বক বিষয়টির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়ে এসেছি। তথাপি আপনি আমাদের মতামত উপেক্ষা করায় নিম্নোক্ত কারণে আমরা আপনার গৃহিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করছি।
প্রত্যাখানকারি শিক্ষকরা কারণ হিসেবে লিখিত নোট আব ডিসেন্টে উল্লেখ্য করেছেন, “ বিভাগগুলো স্টাটিউট এর অন্তর্ভূক্ত নয়। গত একাডেমিক কাউন্সিলে নতুন বিভাগ খোলার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়নি। ইতিপূর্বে আনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির কোন সভায়ও এবিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি।
এদিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির অবনতি হলে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পরে। উল্লেখ্য, শনিবার রাত বার থেকে ১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি ফরম উত্তলোন শুরু হয়েছে। নতুন বিষয়গুলোতে ৭৫ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
নোট অব ডিসেন্ট প্রদানকারী ভর্তি কমিটির সদস্যবৃন্দ হলেন- ব্যবসা প্রশাসন অনুষদর ডিন প্রফেসর ড. আবু সিনা, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান আনওয়ারী, ফলিত পদার্থ ইলেক্ট্রনিক ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রুহুল আমিন ভূইয়া, ইনফরমেশন এ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জাহিদুল ইসলাম, আল-ফিকহ্ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দিন, আল কুরআন এ্যন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেরস ড. আ ব ম সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম নূরী, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.মো. তোজাম্মেল হোসেন, লালন শাহ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. ইকবাল হুসাইন, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম।
আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি তোজাম্মেল হোসেন টাইমনিউজ'কে বলেন, “একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমদনহীন এবং স্টেটিউট বহির্ভূত কোন বিষয় শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তা মানতে বাধ্য নয়।”
এবিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার টাইমনিউজ'কে বলেন, “ভর্তি কমিটির সদস্য হিসেবে ভিন্নমত পোশন করার অধিকার তাদের আছে। বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরী কমিশনের পাঠান চিঠিতে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ভর্তির নির্দেশনা দেয়া আছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উপর মহলে কথা বলেছি।”
এসএইচ/ এআর





