আইনগত বৈধতার প্রশ্ন এনে ও এক্সপার্ট না থাকার অভিযোগ তুলে নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের শিক্ষকরা।

বোর্ড বাতিল না করা পর্যন্ত সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রাখার হুমকি দিয়েছে তারা। ফলে সেশনজটে বিধ্বস্থ বিভাগটি দীর্ঘমেয়াদে অচলাবস্থায় পড়তে যাচ্ছে। এদিকে অবৈধ নিয়োগের ফলে নতুন করে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হওয়ার আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা।

বিভাগ ও প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অস্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত পাঁচজন শিক্ষককে স্থায়ী করার জন্য ২০১৩ সালে একটি স্থায়ী শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে শিক্ষকদের স্থায়ীকরনের ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়।

নিয়মানুযায়ী নিয়োগ বোর্ড বিষয়টি বাতিল করে শুধু প্লানিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তাদের স্থায়ীকরন করবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই বছরের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্লানিং কমিটির সভায় পূর্বের বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে বোর্ড মিটিং না করে অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ী করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট সুপারিশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিন্ডিকেটে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং আইন বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশক্রমে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার আইন বিভাগের ওই পাঁচজন শিক্ষককে স্থায়ী করে দেন। বিভাগের শিক্ষকদের দাবি, বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ায় ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আর কোন বৈধতা নেই। তার ভিত্তিতে কোন নিয়োগ বোর্ড হতে পারেনা। নতুন বিজ্ঞাপন ছাড়া এখন এ নিয়োগ বোর্ড করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের পরিপন্থি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তিনবার বোর্ড মিটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যর্থ হয় প্রশাসন। সবশেষ চলতি মাসের ১৩ তারিখ বোর্ডের তারিখ ধার্য্য করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়োগ বোর্ডকে বে-আইনি ও অবৈধ আখ্যায়িত করে চলতি মাসের ১০ তারিখ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নিকট বোর্ড বাতিলের দাবিতে একটি লিখিত আবেদন করেন বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সদস্যগণ। পরে বোর্ডের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় তারা।

কিন্তু বিভাগের সকল শিক্ষকের মতামত উপেক্ষা করে গত ১৩ তারিখ বোর্ড করে প্রশাসন।

বোর্ডে এক্সপার্ট হিসেবে প্রফেসর ড. বদরুদ্দীন থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেননা। এক্সপার্ট ছাড়াই বোর্ডের মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই এক্সপার্ট প্রার্থীদের যোগ্যতা মূল্যায়ণ না করেই তিনজনকে নিয়োগের জন্য লিখিতভাবে সুপারিশ করেন।

বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, এক্সপার্ট বোর্ডে উপস্থিত থাকতে না পারায় তিনি কয়েকজনের ব্যাপারে মতামত পাঠিয়েছেন। যোগ্যতা মূল্যায়ণ না করে মতামত দেওয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, এক্সপার্টের যা ভালো মনে হয়েছে তা তিনি করেছেন। বিভাগীয় শিক্ষকরা বলেন, র্প্রাথীদের যোগ্যতা বিচার না করে এ ধরনের সুপারিশ বেআইনি।

তাদের অভিযোগ, এক্সপার্ট বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শাহজাহান মন্ডলের আস্থাভাজন হওয়ায় তাকে দিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করিয়েছেন। এক্সপার্টের সুপারিশ প্রার্থীদের মধ্যে ড. মন্ডলের আত্মীয় ও তার এমফিল ফেলো রাজিউর রহমান প্রিন্সও রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্যায়ভাবে বিভাগীয় সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন বিভাগে নিয়োগের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

এদিকে নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবিতে বিভাগের ১৬জন শিক্ষকের মধ্যে ১৪জন শিক্ষক (বিভাগীয় সভাপতি ও তার স্ত্রী ব্যতীত) আজ শনিবার থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রারকে জানিয়েছেন। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছেন তারা। একই সাথে বিভাগের পরীক্ষা কমিটিসহ সব কমিটি থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন আইন বিভাগের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের এ ঘোষনায় বিভাগে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা এবং সেশনজটের কবলে বিধ্বস্থ বিভাগটিতে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা। এতে করে অপূরনীয় ক্ষতির সম্মূখীন হবে বিভাগটি।

এবিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শাহজাহান মন্ডল বলেন, আমার কোন পছন্দেও প্রার্থী নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাকে ভালো মনে করে তাকে নিয়োগ দেবেন।

এব্যাপারে আইন ও শরীয়াহ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ায় তার বৈধতা নেই এখন। তার তার ভিত্তিতে নিয়োগ বোর্ড করা আইনত অবৈধ। প্রার্থীদের যোগ্যতা বিচার না সুপারিশ আইন ও ন্যায়বিচারের পরীপন্থী। এতে করে এক্সপার্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। আমরা আজ থেকে সব কমিটি থেকে পদত্যাগ করবো। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকেও নিজেদের বিরত রাখবো। বিভাগের সব শিক্ষকের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, আমরা আইনের মধ্যে থেকেই বোর্ড করেছি। বিভাগের অচলাবস্থার ব্যাপারে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এমএ