ইসলামী শরিয়তের নিয়ম মেনে ঘরে অবস্থান করে আসন্ন ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করার আহ্বান জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। তাঁর ফেইসবুক ওয়ালে আজ (২৪মে) এমন মতামত প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন ,‘জুমা সকল ইমামের ঐক্যমতে ফরযে আইন। অর্থাৎ সবার উপর ফরয। কেউ আদায় করলে অন্যের ওপর থেকে দায়িত্ব বাদ পড়ে না। তবে জুমার জামাত দ্বিতীয়বার করার অনুমোদন না থাকায় যে ব্যক্তি জুমার জামাত বঞ্চিত হবে সে যোহরের সালাতের মাধ্যমে তা আদায় করে নিবে। কিন্তু ঈদের সালাত সে রকম নয়। ঈদের সালাতে উপস্থিত হওয়া সামষ্টিকের ওপর না ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব তা নিয়ে ইমামদের মাঝে মতোবিরোধ রয়েছে। যদি সামষ্টিক ওয়াজিব হওয়াকে প্রাধান্য দেয়া হয়, তবুও সাধারণ পরিস্থিতিতে সকলে যেখানে স্বাচ্ছন্ধে উম্মুক্ত মাঠে জামাতে সালাত আদায় করতে পারে। সেরূপ অবস্থায়ও যদি কেউ সালাত থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সে পরিবার নিয়ে ঈদের দু’রাকাত সালাত নিজ গৃহে আদায় করতে পারবে।
“সাহাবী আনাস ইবন মালিক (রা.) বসরায় একবার ঈদুর ফিতরের সালাত জামাত বঞ্চিত হন। ফলে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দু’রাকাত আদায় করেন। তাবিঈ আতা ইবন আবি রিবাহ বলেন, ‘যে কেউ ঈদের সালাতের জামাত বঞ্চিত হবে, সে দু’রাকাত সালাত পড়বে এবং তাকবীর সমুহ আদায় করবে। কূফার শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম আবূ হানীফার র. উস্তাদ হাম্মাদ ইবন আবি সুফিয়ানকে র. অনুরূপ প্রশ্ন করা হলে তিনি এভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তারা সেরূপ-ই পড়বে, যেভাবে মানুষেরা পড়ে এবং তাকবীর বলবে’ [মুসান্নাফ আবি শাইবা, ২/৪-৫]।”
সাহাবী, তাবিঈ ও ইমামদের যে মতামত তা ঐ ব্যক্তির জন্য যে কোনো কারণে সালাতুল ঈদ থেকে বাদ পড়ে যায়। সেটা একটা সাধারণ পরিস্থিতি যেখানে সালাতুল জামাত আদায় হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সে জামাত প্রতিষ্ঠা করা ঝুঁকি ও জনকল্যাণের জন্য হুমকি। এমতাবস্থায় খুব ভোরে গোসল, উত্তম পোশাক, আতর-খুশবো, জায়নামাজ বিছানো, মিষ্টি মুখ করার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ গৃহে দু’রাকাত সালাতুল ঈদ আদায় করা-ই উত্তম বিবেচনা করি। সালাতে সরবে তিলাওয়াত ও অতিরিক্ত তাকবীর থাকবে।
তিনি লিখেছেন আমাদের সকল ইমামগণের কেউ-ই ঈদের খুতবা শুনা ওয়াজিব বলেননি। তবুও রাষ্ট্র চাইলে সকল টিভি চ্যানেলে এ যুগে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলিমের একটি খুতবার প্রচার করতে পারে। আমরা তা শুনে নিতে পারি।
পোস্টের শেষ দিকে তিনি দ্রুত-ই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও যথাযথ পদ্ধতিতে সালাত আদায়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহর নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেন।
সোহেল/এএস





