বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরিক্ষার ফলাফলে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয় । পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত দশ বছরের মধ্যে পাশের হার এবারেই সর্বনিম্ন। একইভাবে শিক্ষার্থীদের জিপিএ-ফাইভ পাওয়া গত সাত বছরে নেমে এসেছে প্রায় দশগুণ নিচে।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯১ জন। এতে পাসের হার ৭৬ দশমিক ২০ শতাংশ । জিপিএ-ফাইভ পেয়েছে দুই হাজার ৬১০ শিক্ষার্থী। যা গত দশ বছরে সর্বনিম্ন।

দাখিলের ফলাফল ও জিপিএ-ফাইভ প্রাপ্তির হারে এমন ধ্বস নামাতে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যেখানে এসএসসিসহ সমমানের অন্যান্য ক্ষেত্রে জিপিএ-ফাইভ প্রাপ্তির সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে সেখানে মাদ্রাসায় কেন এমন বিপর্যয় সে প্রশ্নও অনেকের।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ এর ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য হয়ে থাকলেও মাদ্রাসার বিষয়টি ছিল একেবারে ভিন্ন। এখানে বিগত ৭ বছরের ব্যবধানে জিপিয়ে ফাইভ-প্রাপ্তির সংখ্যা প্রায় দশ ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। এটা কাকতালীয় নাকি মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কোন গভীর চক্রান্ত সে প্রশ্নও অনেকের।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি ‘টাইমনিউজ’কে বলেন, মূলত গণিত ও ইংরেজিতে খারাপ করায় জিপিএ ৫ ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক কোন ত্রুটির বিষয়ে এমন বিপর্যয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মূখ্য কোন বিষয় নয়। আমরা আসলে এবার খাতা মুল্যায়নে একটু নতুনত্ব এনেছি। মন্ত্রনালয়ের পরিপত্র অনুযায়ি উত্তম,মধ্যম এবং নিম্নমানের খাতাগুলোকে বাছাই করেছি, এরপর পরিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ তত্বাবধান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এবার একটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং একটা স্টান্ডার্ড রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে, দুই-তিন বছর থেকে মাননীয় মন্ত্রী বলে আসছেন; এবার আমরা শুরু করেছি।ভবিষ্যতেও খাতা মূল্যায়নে উন্নতমান রক্ষার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, মূলত গণিত ও ইংরেজিতে ত্রুটি হয়েছে। পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছর গণিতে ৯৭.৯৯শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে যা এবার করেছে ৯১.৩৩ শতাংশ। একইভাবে ইংরেজিতে গত বছর ৯৮.০৫শতাংশ পাস করেছে এবার তা নেমে এসেছে ৯৫ শতাংশে। এটা রেজাল্ট খারাপ ও জিপিএ কম হওয়ার একটা মূল কারন বলে মনে করেন তিনি।

একই সাথে এরকম একটা রেজাল্ট খারাপ হওয়ার দরকারও আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য একটা বড় সিগনাল। তারা এখন পড়াশুনায় অনেক সচেতন হবে এবং ভবিষ্যতে পাটদান ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে যত্নবান হবে।

বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, আমি মনেকরি খাতা মূল্যায়নের এই সিদ্ধান্তটা অত্যন্ত পজেটিভ হয়েছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য।

তিনি কুমিল্লা বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন বিপর্যয় হতেই পারে। এর মানে এটা নয় যে মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে বিমুখ করা হচ্ছে বা শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাবে। এমন কেউ মনে করলে সেটা তার মনগড়া।

জিপিএ-ফাইভ কমে যাওয়ার বিষয়ে মৌলিক কিছু উল্লেখ না করে তিনি বলেন, জিপিএ-ফাইভ পাওয়া বেশি অংশ অতিরিক্ত বিষয়ের নাম্বার যোগ করে পেয়ে থাকে। ভালো জায়গায় ভর্তি না হতে পেরে অনেকে কষ্ট পেয়ে থাকেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কেবি