জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসার পর পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ইসরাফিল চৌধুরী সোহেল নামের এক শিক্ষার্থীকে পাইপ ও রড হাতে ধাওয়া করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের গ্যালারিতে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসার পর এ ঘটনা ঘটে। তিনি অর্থনীতি বিভাগের ৪০ তম আবর্তন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
এদিকে, ইসরাফিল চৌধুরী সোহেল জাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক পদে থাকলেও পরবর্তীতে একযোগে পদত্যাগকারী আটজন নেতাদের মধ্যে একজন বলে জানা গেছে।

অর্থনীতি বিাভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইসরাফিল হোসেন দুই দিন আগে বিভাগের অনুষ্টিতব্য ফাইনাল পরীক্ষায় নকল নিয়ে ধরা পড়ে এবং শিক্ষকদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষকরা তাকে বহিস্কারের পদক্ষেপ নিলে ইসরাফিল জানায় তার এক বছর ড্রপ আছে এবং এবার বহিষ্কার হলে তার ছাত্রজীবন শেষ হয়ে যাবে। ফলে শিক্ষকরা তার ছাত্রজীবনের কথা চিন্তা করে তাকে ক্ষমা করে দেন।
কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষকদের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনা জানাজানি হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে মারার জন্য খুজতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ইসরাফিল পরীক্ষা দিতে আসলে ছাত্রলীগ কর্মী সজল, আজিজ, বরণ, সৌমিক, কৌশিক, হাবিব, মনোজিত, সৈকত, মিরাজ, নাফিস পাইপ ও রড হাতে তাকে ধাওয়া করলে সে দৌড়ে পরীক্ষার হলে ঢুকে যায়। এরা সকলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের বহিস্কৃত নেতা আসিফ আহমেদ ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনির অনুসারী।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা আসিফ আহমেদ বলেন, আমি কয়েকদিন যাবত অসুস্থ্য হয়ে ঢাকায় আছি। তবে হলের ছোট ভাইয়েরা আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছে তারা ছাত্রদলের একজন পোস্টেড নেতাকে মেরেছে ।
পরীক্ষা দিতে আসার পর শিক্ষার্থীকে হেনস্থা করার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যালারির বাইরে ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের দৌড়াদৌড়ি হয়েছে। তবে মিটিং না করে আমরা কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারব না।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, অভিযোগ না পেলে আমরা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব না।
এমবিএইচ