ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম বহির্ভুতভাবে দুইটি পদের বিপরিদে ৩৫ জনকে পদোন্নিতি দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৯ তম (জরুরি) সিন্ডিকেটে চতুর্থ শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণীসহ বেস কয়েকটি পদে পদোন্নতির বিষয়টি অনুমোদিত হয়।
এদিকে পদোন্নতির পেছনে ইবি কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমান এবং ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক সম্পাদকের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছে ভুক্তভূগী প্রার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি বিষয়ে ২২৯ তম সিন্ডিকেট (জরুরি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিন্ডিকেটে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হকিম সরকার।
আরো উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক মামুনুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও ট্র্রেজারার। সভায় চতুর্থ শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণীতে দুইটি পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল।
সিন্ডিকেট সভা সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম লঙ্ঘন করে দু’টি পদের বিপরীতে মোট ৩৫ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পদ দু’টি হলো, নি¤œমান সহকারী (রেজিস্টার অফিস) এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সহকারী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণীতে পদোন্নতি পেতে গত সোমবার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং মঙ্গলবার সাক্ষাৎকার বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে অঘোষিত ভাবে প্রচার হয় যে, কর্মচারি সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমানের সুপারিশ ছাড়া কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হবে না।
এই সুযোগে কর্মকর্তা সমিতির সাভাপতি আতিয়ার রহমান পদোন্নতি প্রত্যাশী প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে নেয় বলে অভিযোগ করে ভূক্তভুগীরা।
ভিসি অফিস সূত্রে জানাযায়, সিন্ডিকেটের আগে ভিসির সাথে ইবি ছাত্রলীগের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত দুই দিন আগে ভিসির কর্যালয়ের কনফারেন্স রুমে দুপুর দুইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় বলে জানা যায়।
সংশ্লীষ্ট ও ভুক্তভূগী সূত্রে জানাযায়, সুযোগের অপব্যাবহার করে পদোন্নতি প্রত্যাশীত প্রার্থীদের কাছ থেকে সর্বনিম্নআশি হাজার থেকে দুই লক্ষ পর্যন্ত টাকা আদায় করেছে কর্মচারি সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমান। যা বিভিন্ন যায়গায় ভাগবাটয়ারা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করে।
এদিকে পদোন্নতি প্রাপ্ত একাধীক ভুক্তভূগী প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পদোন্নতি হয়েছে কিন্তু এর বিনিময়ে আমাদের মোটা অংকের টাকা মাশুল দিতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মচারী বলেন, একসাথে ৩৫ জন কর্মচারীর পদোন্নতির পেছনে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
সাক্ষাৎকার বোর্ডের তালিকায় যেন নাম যায় সেজন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমান মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।
আর্থিক লেনদেনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসও জড়িত বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘এভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতির নজির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে ছিল না। বিজ্ঞাপিত দুইটি পদের বিপরীতে কিভাবে ৩৫ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হল তা আমার বোধগম্য নই।
তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এভাবে পদোন্নতি দেওয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে।
আর্থিক লেনদেনের কথা অস্বীকার করে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। ছাত্রলীগ এমন কর্মকান্ডে জড়িত নয়।
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, আমি কর্মচারীদের প্রতিনিধি। আমি তাদের সার্থে কাজ করি ভবিষ্যতেও করবো। টাকা লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন- “নির্ধারিত ব্যক্তি অপেক্ষা অতিরিক্ত ব্যক্তি পদোন্নতি পেয়েছে বিষয়টি সত্য।
তবে করার কিছু ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় ও বাইরে থেকে এ বিষয়ে প্রচন্ড চাপ, অনেকের ডিও লেটার এটি করতে বাধ্য করেছে।
এসএইচ





