ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স(সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির মৌখিক পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি দিতে আসা এক প্রক্সিবাজকে পুলিশের হাতে সপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই প্রক্সিবাজের নাম আশারাফুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সি ইউনিটের ভাইভা দিতে আসলে তাকে আটক করা হয়। আশরাফুল বলছে, চেহারায় মিল থাকায় তার বন্ধু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাকে ভাইভা দিতে পাঠিয়েছে।

‘সি’ ইউনিট সম্মনয়কারীর অফিস সূত্রে জানা যায়, আটককৃত আশরাফুল মাহফুজ আরাফাত নামের এক ভর্তিচ্ছুর(‘সি’ ইউনিটে ১০৯১০ রোলধারীর) প্রবেশপত্র নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসে । মৌখিক পরীক্ষায় তার কথায় অসঙ্গতি এবং এডমিডের ছবির সাথে তার চেহারার তারতম্য থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাজ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে মাহফুজ আরাফাত নামের এক ভর্তিচ্ছুর পরিবর্তে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির হাতে হস্তন্তর করা হয়।

এদিকে ওই প্রক্সিবাজ আশরাফুলের কে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চঞ্চল্যকর তথ্য। আশরাফুল জানায়, “ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি তৌফিকুর রহমান হিটলার মাহফুজ আরাফাতের পরিবর্তে আমাকে ভাইভা দিতে নিয়ে আসে। সে আমার এলাকার সম্পর্কে চাচা। আরাফাত বিয়ের দাওয়াত খেতে এলাকা থেকে দুরে আবস্থান করায় অন্যের দ্বারা ভাইভা দেওয়াতে হিটলারের সাথে টাকার বিনিময়ে যোগযোগ করে। সে আমাকে বলে, আরাফাতের ছবির সাথে তোর মিল আছে। তোকে শিক্ষকরা ধরতে পারবে না। কিন্তু ধরা পড়ার পর সে আমার সাথে আর যোগাযোগ করছে না। তবে কত টাকা বিনিময় হয়েছে তা বলেনি আমাকে।”

এবিষয়ে কথা বলতে সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার তৌহিদুর রহমান হিটলারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আশরাফুল কে থানায় পাঠিয়েছে। এখনও মামলা করা হয়নি। তবে পুলিশ-প্রশাসনকে বিষয় টি ক্ষতীয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

ইবি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চৌধুরী শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এখনো মামলা করেনি। মামলা করলে আমরা সে অনুযায়ি পদক্ষেপ গ্রহন করব।

প্রক্সিবাজ আশরাফুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার কাশিমপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের পুত্র। সে ঝিনাইদহ জিন্নাহ আলী ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

এমএম