জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম বরকত হলের ৫ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের এক ছাত্রী।
বৃহস্পতিবার প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছে ওই ছাত্রী। পাশাপাশি ছিনতাইয়ের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ পত্রে ছাত্রী লিখেছেন, পহেলা বৈশাখের দিন অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হলে ফেরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গি মোড়ে ওই ছাত্রীকে ও তার বন্ধু নাহিদকে ৫ জন ছেলে দাঁড়াতে বলে এবং তাদের ভিতর থেকে একজন ব্যাগ নিয়ে দৌঁড় দেয়। পরে নাহিদকে সাথে নিয়ে ওই ছাত্রী তাদের পেছনে দৌঁড় দেয়। পরে লেকের পাশে কথা কাটাকাটি হয় ওই ৫ ছাত্রের সাথে।
এক পর্যায়ে নাহিদকে মারধর ও ওই মেয়েকে লাঞ্ছিত করে অভিযুক্ত ৫ ছাত্র। নাহিদ ইফতি নামের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৩ ব্যাচের ও শহীদ সালাম বরকত হলের একজনকে চিনতে পারে বলে লিখেছেন অভিযোগকারী। পরে আরো ৪জনকে সনাক্ত করতে পেরেছেন বলে জানান, ওই ছাত্রী।
তারা হলো- বিকাশ (প্রাণিবিদ্যা), অর্ণপ (রসায়ন), রাকিব (ভুগোল ওপরিবেশ), নুরন্নবী (নৃবিজ্ঞান)।
প্রত্যেকই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ ব্যাচের ছাত্র এবং শহীদ সালাম বরকত হলের ছাত্রলীগকর্মী। তবে ছিনতাই ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত ৫ ছাত্র। লেকের পাশে নাহিদের সাথে কথাকাটাকাটি হলেও মারধর ও লাঞ্ছিতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেছে ওই ৫ ছাত্র।
ওই ঘটনায় রাতে অভিযুক্তদের ব্যাপক মারধর করা হয়েছে জানিয়ে জাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, সাংগাঠনিকভাবে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহায়তা করা হবে।
জাবি প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা জানান, ছিনতাই অভিযোগের পাশাপাশি লাঞ্ছিত করার অভিযোগ থাকায় যৌন নিপিড়ণ বিরোধী সেলে অভিযোগটি প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে যৌন নিপিড়ণ বিরোধী সেলের সদস্য অধ্যাপক রাশেদা বেগম জানান, এখনো অভিযোগটি পাইনি।
অন্যদিকে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের ৪৩তম আবর্তনের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির যে অভিযোগ উঠেছে তার যথাযথ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। সংগঠনের সভাপতি তন্ময় ধর ও সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
জেএ





