মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নাগরিক সমাজ। আর জেলা প্রশাসন জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২৭ জন সহকারী শিক্ষক বাড়ির কাছাকাছি ক্লাস নেয়ার সুবিধা পেতে বদলি করার আবেদন করেন। তাদের মধ্যে থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ জেলার ৪টি উপজেলায় ২৫৮ জন শিক্ষককে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। সুত্র: সময়
নিয়ম রয়েছে, সবচেয়ে সিনিয়রদের পদাধিকার বলে অন্যত্র বদলি করার, কিন্তু নিয়ম না মেনেই উৎকোচ নিয়ে জুনিয়র অনেক শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
একজন বলেন, 'আমি এ বছর বদলির জন্য আবেদন করেছিলাম। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আমাকে বদলি না করে অন্য একজনকে করা হয়েছে কারণ তার লোক রয়েছে।'
অপর একজন বলেন, 'নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেকেই বদলি হয়েছে।'
এই অভিযোগের তীর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের দিকে। এ ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে একাধিকবার গিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর ভুক্তভোগী শিক্ষকরা চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
একজন শিক্ষক বলেন, 'আমি শুনলাম আবেদন করার পরও আমার বদলি হয়নি তবে যে আবেদন করেনি তার বদলি হয়েছে।'
সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক বদলিতে অনৈতিক লেনদেন হয়ে আসছে বলে অভিযোগ হচ্ছে।
মাদারীপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য এনায়েত হোসেন নান্নু বলেন, শুধুমাত্র শিক্ষা কর্মকর্তা এই কাজটি করে থাকেন। এরসঙ্গে জেলা প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যুক্ত না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম হয়ে আসছে।
জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক বদলিতে উৎকোচ নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক বদলির বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। যদি কোনো অভিযোগ আসে তবে আমরা তার তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। জেলায় ৭১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ২০০ শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
এএস





