শনিবার (২২ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির ও সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, আবাসিক হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক বন্ধন ও সহাবস্থান তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এসব হল জ্ঞান অর্জন, জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞান উদ্ভাবনের উৎকৃষ্ট ক্ষেত্র হওয়া উচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও হল দখল, সিট বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের মারধর ও হেনস্তার মতো ঘটনা সামনে আসছে।

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম হলে ‘JCD’ লেখা নিয়ে হলের শিক্ষার্থী ও জুলাইয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া মামুনুর রশীদকে মারধরের উদ্দেশ্যে ছাত্রদল কর্মীসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক কর্মী সেখানে যান। একপর্যায়ে কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই যোদ্ধা মামুনুর রশীদকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তারা।

এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে দাবি করে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রভোস্ট কক্ষে আলোচনা চলাকালে ছাত্রদল কর্মীরা আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওপর পুনরায় হামলা চালান। তাদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ছাত্রশিবিরের ওপর দায় চাপানোর এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, গত ২ আগস্ট ছাত্রদলের ‘বিজয় ২৪ হলে’ গণরুম করার অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের দখলদারত্ব, সিট বাণিজ্য কিংবা দলীয় প্রভাব বিস্তারের জায়গা হতে পারে না। আবাসিক হলে এ ধরনের সহিংসতা বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মর্মান্তিক ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয় বলেও উল্লেখ করেন তারা।

আবাসিক হলগুলোকে দলীয়করণ ও দখলদারত্বমুক্ত রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুষ্ঠু ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান ছাত্রশিবির নেতারা।

এনএইচ