চার মাস বন্ধ থাকার পর শনিবার খুলেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ খুলে দেয়া হয়।

হল খুলে দেয়ার পর শুক্রবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রতিটি হলেই শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখে ঢুকতে দেয়া হয়।

তবে হলগুলোতে ঢুকতে ১০টি শর্ত পূরণ করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। শর্তগুলোর মধ্যে পরিচয়পত্র দেখানো, ব্যাগ তল্লাশি, বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও অতিথিদেরকে হলের ফটকে ঢুকতে না দেয়া অন্যতম।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. লোকমান হাকিম জানান, যেহেতু শনিবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাই দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে ছাত্রীরা যাতে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সেজন্য ২২৮ তম জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়। এ সময় হলগুলোর প্রভোস্টরা উপস্থিত থেকে হল খুলে দেন। নাশকতা প্রতিরোধে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালু ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মেধাতালিকায় উত্তীর্ণদের ভর্তির সাক্ষাৎকার শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার জানান, অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে ক্যাম্পাস খুলে দিয়েছি। দীর্ঘ বন্ধে শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকটি বিভাগে খোঁজ নিব এবং বিভাগীয় শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর ক্যাম্পাসে বাসচাপায় তৌহিদুর রহমান টিটু নামে এক ছাত্র নিহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের ৩৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় ওই দিনই অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কেএইচ/এমকে