দারিদ্রতার কাছে পরাজিত হয়নি মিরসরাইয়ের নোমান। দিন কাটতো অনাহার কিংবা অর্ধাহারে। সকল বাঁধা পেরিয়ে ঠিক সফলতার সিঁড়ি ছুঁয়েছেন মেধাবী নোমান হোসাইন। সকল বাধাকে অতিক্রম করে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৫।
নোমান চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর আগে এসএসসি’তেও তাঁর ফলাফল ছিল জিপিএ-৫। স্থানীয় শফিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাশ করেন।
জানা গেছে, মেধাবী ছাত্র নোমান মিরসরাই উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানী গ্রামের দিনমজুর আলমগীর হোসেনের ছেলে। তাঁর মা জোসনেয়ারা বেগম। দুই ভাই-বোনের মধ্যে নোমান ছোট। বড় বোন মর্জিনা বিয়ের পর স্বামীর সংসারে থাকেন।
প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজ থেকে এবার এইচএসসির পরীক্ষায় ১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে এদের মধ্যে নোমান সবচেয়ে মেধাবী ও দরিদ্র।
নোমান বলেন, ‘আমার আজকের সফলতার পেছনে অনেকের অনুপ্রেরণা আর সাহায্য রয়েছে। তার মধ্যে আমার দিনমুজর বাবার পরিশ্রম, মায়ের উৎসাহ আর আমার স্কুল শিক্ষক আলমগীর হোসেনের (স্থানীয় শফিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক) অনুপ্রেরণা আমাকে সফলতার মুখ দেখিয়েছে। এছাড়া আমার কলেজের সকল শিক্ষক আমাকে সন্তানের মত করে দেখেছেন। সবসময় আগলে রেখেছেন। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।’
ভবিষ্যতে নিজের স্বপ্ন এবং লক্ষ্য নিয়ে নোমান বলেন, ‘প্রথমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে চেষ্টা করবো। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিচ্ছি। এরপর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া আমার লক্ষ্য থাকবে। এ ক্ষেত্রে আর্থিক অনটনের বিষয়টি নিয়ে দুঃশ্চিন্তা রয়েছে।’ এসময় নিজের অবিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেশের গরিব শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার জন্য কিছু করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন নোমান।
প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবছার উদ্দিন বলেন, ‘নোমানের বাবা দিনমজুর, বর্তমানে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এইচএসসি’তে পড়াশুনাকালে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী তাঁর পড়াশুনার সকল ব্যয়ভার বহন করতেন। অসম্ভব একটি মেধাবী ছাত্র নোমান। তাঁর উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে দারিদ্রতা অন্তরায় হতে পারে। তাই সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।’
সন্তানের সফলতার খবর পেয়ে মা জোসনায়ারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলেন, পাড়া প্রতিবেশি সকলকে নিজের সন্তানের ভালো ফলাফলের খবর দিয়েছি। সকলের দোয়ায় আজ ছেলেটা ভালো ফলাফল করেছে।’ নোমানের বাবা বিষয় উঠতেই জোসনেয়ারা হঠাৎ থেমে যান। একটু পর বলেন, ‘নোমানের বাবা বেশ অসুস্থ। টাকার অভাবে ডাক্তারের কাছেও নিতে পারছি না।’ ছেলের উচ্চ শিক্ষার প্রসঙ্গ উঠতে জোসনেয়ারা বলেন, ‘এতদিন পাড়া প্রতিবেশী, শিক্ষক কলেজ কর্তৃপক্ষ সকলেই সহযোগিতা করেছেন। এবারও নিশ্চই সকলে আমার সন্তানের জন্য এগিয়ে আসবেন।’
এসএ





