আদর্শিক শিক্ষা না থাকার কারণে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “জাতির দূর্ভাগ্য, এদেশের শিক্ষিতরাই জনগণকে বঞ্চিত করছে এবং জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে। এ অবস্থায় দূর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন ও দেশকে এগিয়ে নিতে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই। আজকের প্রেক্ষাপটে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”
আজ (১৫ আগস্ট) বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর এক মিলনায়তনে ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখা আয়োজিত ১৫ আগষ্ট ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমাদের দেশে শতকরা নব্বই শতাংশ মানুষ মুসলিম। আমাদের মানসে ইসলামী চেতনা বিরাজমান। ইসলামী বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে জানতে পারলে এবং নিজেদের মধ্যে তাকওয়ার চর্চা করতে পারলে নৈতিকতার সুন্দরতম অবস্থা আমাদের মাঝে বিরাজ করা সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।”
“যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষিত মহল জাগতিক দিক থেকে দক্ষতা অর্জন করতে পারলেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে নৈতিকতার শিক্ষা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। ফলে দুর্ণীতি বাসা বাধছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, অপসংস্কৃতির ছয়লাব হচ্ছে, সৌহার্ধ্য-স¤প্রীতির পরিবর্তে হানাহানি বাড়ছে, শান্তির পরিবর্তে সংকট ঘনিভূত হচ্ছে। সমাজ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জাগতিক সমৃদ্ধি পেলেও আত্মীক প্রশান্তি না তৈরি হওয়ায় প্রকৃত অর্থে সুখ ও সমৃদ্ধি আসছে না। এখান থেকে মুক্তি আজ বড়ই প্রয়োজন।”
সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ইসলাম-বিহীন সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা জাতির জন্য অভিশাপ হবে তা বহু বছর আগেই বুঝতে পেরেছিলেন শহীদ আব্দুল মালেক। তার আশঙ্কাই আজকের বাস্তবতা। শহীদ আব্দুল মালেক ও তাঁর সাথীরা ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সংগ্রাম করতে গিয়ে ইসলাম-বিদ্বেষী বাম সংগঠনের সন্ত্রাসীদের দ্বারা আহত হন। শাহাদাতবরণ করেন শহীদ আব্দুল মালেক।”
তিনি আরও বলেন, “ঘৃণিত অপশক্তির তাবেদারেরা মেধাবী ছাত্র আব্দুল মালেককে হত্যা করে বাংলার জমিন থেকে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর প্রচেষ্টাকে নির্মূল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন সফল হয়নি বরং বুমেরাং হয়েছে। হত্যাকারীরা আজ ছাত্রজনতার কাছে ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ আব্দুল মালেক একটি চেতনা, একটি ইতিহাস, একটি প্রেরণার নাম। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত সারা বাংলায় লক্ষ-কোটি আব্দুল মালেকের জন্ম হয়েছে।”
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলেন, “ইসলামপ্রিয় নতুন প্রজন্ম বাংলার জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণমূলক ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করতে প্রস্ততি গ্রহণ করছে। সকল বাঁধা মাড়িয়ে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে শহীদ মালেকের উত্তরসুরিরা ইনশাআল্লাহ।
সংগঠনটির সহকারী প্রচার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এইসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এমবি





