[b]লক্ষ্মীপুর:[/b] ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন লক্ষ্মীপুরে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের উপর নাশকতা চালানো হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিদ্যালয়ের ব্যবহার্য আসবাবপত্র, মূল্যবান কাগজপত্র, শিক্ষা উপকরণ ও বিদ্যালয়ের কক্ষ ও ভবন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব অনুযায়ী, কমলনগর-রামগতি ও রামগঞ্জে ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর মধ্যে কমলনগরে ৩টি ও রামগঞ্জে ৫টি। তাদের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো হল-কমলনগর: হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমী, পশ্চিম লরেঞ্চ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও চরজাঙ্গালিয়া এস,সি উচ্চ বিদ্যালয়। রামগঞ্জ: নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মাছিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়, পানপাড়া স্কুল এন্ড কলেজ ও বদরপুর দাখিল মাদ্রাসা।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল আজিজের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমাদের যে সব বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার প্রতিবেদন আমরা বোর্ডে ও মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা অতি শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ করাতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস। তবে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় কোন সমস্যা হচ্ছে না। নির্বিঘ্নে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব অনুযায়ী কমলনগর-রামগতি ও রামগঞ্জে ৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর মধ্যে রামগতিতে ২টি, রামগঞ্জে ১৮টি ও কমলনগরে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৯৩২০৬১ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো হল-
রামগতি: লম্বাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব চর সীতা মাষ্টার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
রামগঞ্জ: পূর্ব বিঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র²পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পানিয়ালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাওয়ালিডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াগাঁও বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঙ্গীর গাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরবেশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহাজাকিউদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্দরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঘবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুনিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর হরিচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রসুলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসানাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোমরতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাগমুদ মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভার্টরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
কমলনগর: পশ্চিম চর মার্টিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর পশ্চিম চর জাঙ্গালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য চর জগবন্ধু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চর ফলকন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পূর্ব চর লরেঞ্চ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম চর জগবন্ধু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর ফলকন মাওলানা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর ফলকন জাজিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ পূর্ব চর ফলকন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাথে আলাপ করলে তারা বলে আমাদের প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, এখন শুধু পাস হওয়ার অপেক্ষা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় সুশীল সমাজ ও শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানায়। তারা জানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা মানে পুরো জাতির বিবেকের উপর হামলা। যারা এ ঘৃণ্য কাজ করে তারা জাতিকে ধ্বংস করতে চায়।
এব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) লক্ষ্মীপুর এর সহ-সভাপতি বনশ্রী পাল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতি গঠনের সোপান। মসজিদ, মন্দির এর পরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকলের, কোন দল বা ব্যক্তির নয়, যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সন্তানেরাও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করছে বা করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি মানে আপনার সন্তানের ক্ষতি তথা পুরো জাতির ক্ষতি। তাই তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সকল প্রকার রাজনীতির বাহিরে রাখার অনুরোধ জানান।
লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েক ছাত্র বলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলায় আমরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানায় এবং যারা এর সাথে জড়িত রয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।
শিক্ষা
নির্বাচনের আগুনে পুড়েছে লক্ষ্মীপুরের ৩৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
লক্ষ্মীপুর: ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন লক্ষ্মীপুরে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের উপর নাশকতা চালানো হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিদ্যালয়ের ব্যবহার্য আসবাবপত্র, মূল্যবান কাগজপত্র, শিক্ষা উপকরণ ও বিদ্যালয়ের কক্ষ ও ভবন।





