আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, প্রার্থীদের হুমকি-ধামকির ঘটনাসহ উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কর্মকর্তা সমিতি নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১ অনুযায়ী উপাচার্যের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মকর্তাদের স্বার্থ যেন ক্ষুন্ন না হয়, এ জন্য ছয় দপ্তরপ্রধানের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিকের জন্য ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এসব সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে কর্মকর্তা সমিতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন সমিতির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় যবিপ্রবি উপাচার্য তার ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নিলেন।

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে এটা নিয়ে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা আমার ৩৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে দেখিনি। প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি-ধামকি শুধু অফিসের মধ্যেও না, বাসায় গিয়েও দেওয়া হয়েছে। এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের স্বার্থে, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী আমার অর্পিত ক্ষমতাবলে কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করছি। একইসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে প্রধান করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করছি। আর নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দিন থেকে কর্মকর্তা সমিতির পূর্বের কমিটি অকার্যকর হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পূর্বের কমিটির আর বৈধতা নেই।’

ড. আনোয়ার বলেন, ‘ছয় দপ্তরপ্রধানের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে মর্মে যে সময় উপাচার্য বরাবর সুপারিশ করবে, তারপরে এই নির্বাচন যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ এই তথ্য দিয়েছেন।

তরিকুল ইসলাম তারেক/এসএম