রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যু ও একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বেলা ১১ টার দিকে বিভাগের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিভাগের সভাপতি প্রদীপ কুমার পান্ডে, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক মো. মশিহুর রহমান, ইংরেজী বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড.এ.এফ.এম মাসউদ আখতার, নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর বিপুল কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম প্রমুখ ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘মৃত্যু, মানববন্ধন, সমাবেশ, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, আবার আরেকটি হত্যা। আবার বিচার দাবিতে আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় আর কতদিন এভাবে চক্রাকারে হত্যা হতেই থাকবে? আর কতদিন আমাদের বিচার দাবিতে এভাবে রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হবে। আমরা এ প্রশ্নের জবাব চাই।’
এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা আরো বলেন, এই যে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ আজ জ্বলে উঠেছে, আপনারা যদি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকেন, তবে আমার পক্ষে এ স্ফুলিঙ্গকে থামিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। আন্দোলনের পর আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় জ্বলে উঠবে।
বিশ্ববিদ্যালয় একটি নিরাপদ বেষ্টিত জায়গা এর থেকেও বেশি নিরাপদ জায়গা যেটি মনে করা হয় সেটি হলো আবাসিক হল । কিন্তু আজ আমরা সেখানেও নিরাপদ নয়। প্রশাসনের কাছে নিজেদের নিরাপত্তার দাবিও জানান বক্তরা।
আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চাই। যতদিন পর্যন্ত এর বিচার হবে না আমরা কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এসময় তারা লিপু হত্যাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সকল হত্যাকান্ডের জোর বিচারের দাবি জানান।
সমাবেশে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংহতি জানিয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ ও ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঝিনাইদহ্ জেলা সমিতি, হরিনাকুণ্ড উপজেলা সমিতি ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতির বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আশিক/এআই





