ভর্তি-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, হামলা-ভাঙচুরসহ আইন-শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক বিধি বহির্ভূত নানা কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ শাখার ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত করেছে জেলা ছাত্রলীগ।
রোববার সন্ধ্যায় এক জরুরী বৈঠক শেষে এ কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়।
জেলা কমিটির চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রলীগ জেলা কমিটির সভাপতি আলী মুর্তজা খসরু।
তিনি জানান, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ ছিল। একের পর এক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছিল জেলা ছাত্রলীগসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকেও।
অবশেষে দলীয় ইমেজ রক্ষার স্বার্থেই তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য কিছু অসৎ লোকের দৌরাত্মে ধ্বংস হোক এটা হতে পারে না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই কমিটির নাম ব্যবহার করে কেউ কোন ঘটনা ঘটালে তার দায়ভার জেলা ছাত্রলীগ বহণ করবে না।
কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ শাখার ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কলেজ ক্যাম্পাসের অসংখ্য শিক্ষক শিক্ষার্থী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ হোস্টেলের এক আবাসিক ছাত্র জানান, শেষ পর্যন্ত ছাত্রবাসের ছাত্রদের নিয়মিত চাঁদাবজির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো।
কয়েকটি বিভাগের শিক্ষক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বেপরোয়া মঞ্জিল-শাওনের কবল থেকে কলেজ ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ রাহুমুক্ত হলো। এদের সীমাহীন বিশৃঙ্খলার শিকার হয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আসা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। নিজেদের সম্মান মর্যাদা রক্ষার কথা চিন্তা করেই তারা আর ক্যাম্পাসে আসে না। অসংখ্য অভিভাবকরা অভিযোগ নিয়ে আসলেও এদের দৌরাত্মে কলেজ কর্তৃপক্ষের কিছুই করার ছিল না।
জেলা ছাত্রলীগের সূত্র জানা যায়, পাঁচ মাস পূর্বে শেখ জোবায়ের হোসেন মঞ্জিলকে সভাপতি ও সোয়ায়েদ শাওনকে সাধারণ সম্পাদক করে কলেজ শাখার এই কমিটি গঠিত হয়।
এমকে





