জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের কতিপয় লোভী ও স্বার্থপর সাংবাদিকের ক্ষমতা গ্রহণকে কেন্দ্র করে সাংবদিকদের মধ্যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট সমাধানে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম (শামীম রেজা) দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী একাধিক সাংবাদিক জানান, গত কয়েকদিন যাবৎ জাবি প্রেসক্লাবের অর্থলুট, জালিয়াতি ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট চলছে। সংকটের মূলে রয়েছে সাধারণ সম্পাদক তানজিদ বসুনিয়ার অর্থ আত্মসাতের বিচার দাবি এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন।
উপাচার্য বরাবর দেয়া অভিযোগ হতে জানা যায়, তানজিদ বসুনিয়া বিভিন্ন সময় জাবি প্রেসক্লাবের নামে বিভিন্ন সংগঠন, শুভাকাঙ্খী শিক্ষক, ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন মহল থেকে অর্থ আদায় করে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছে। সর্বশেষ `সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার নামে।
এসব অভিযোগের যাতে বিচার না হয় তার জন্য আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করতে সংবাদকর্মী নয় এমন ১৫ জনকে সংগঠনের সদস্যপদ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে বসুনিয়ার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিকদার মো. জুলকারনাইন এবং আইন ও বিচার বিভাগের প্রভাষক ফেরদৌসী রহমানকে উদ্ভত সমস্যার দ্রুত মীমাংসার নির্দেশ দেন।
নির্দেশের কয়েকদিন চলে গেলে শিক্ষকগণ হঠাৎ গত ৩ মে, ২০১৭ তারিখে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা, নির্বাচনী ইশতেহার ও নির্বাচনসহ সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধানের দাবিতে ৪মে, ২০১৭ তারিখে প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে ৪৮ ঘন্টা আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিকরা। অন্যদিকে উপদেষ্টাকে অমান্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা শেখ আদনান ফাহাদ।
এদিকে, এক নির্বাচন কমিশনার বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, ভিসি নিজেই প্রেস ক্লাবের একটি অংশের দুইজনকে সভাপতি-সম্পাদক ঘোষণা করে দেওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ভোটার তালিকায় সমস্যা থাকলেও বাধ্য হয়ে আমরা একটি অংশকে বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণা করেছি।
অন্যদিকে, ঘোষিত এই কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখান করেছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ অপর অংশের সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, ভিসি বিশেষ সুবিধা নিতে একটি অংশের দুই-তিনজনকে সমর্থন করছেন যা তিনি কখনো করতে পারেন না।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রার্থী ও দৈনিক জনকণ্ঠের জাবি প্রতিনিধি দীপঙ্কর দাস বলেন, গঠনতন্ত্রের কোনো
তোয়াক্কা না করেই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি অবৈধ; আমরা এই কমিটি মানি না। আমরা শুরু থেকেই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন দেওয়ার কথা বলে আসছি। কিন্তু ভিসি একটা অংশ নিয়ে কমিটি দেবার আদেশ দিয়েছেন যা তিনি কখনো করতে পারেন না।
সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হবে ভেবে সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে প্রেসক্লাবের কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। আমারা এ কমিটি বর্জন করছি।
উল্লেখ্য,এর আগে ২০১২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি থেকে চারজন সাংবাদিক বের হয়ে জাবি প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন।
কেবি





