শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়া নিয়ে ইসলামী বিশ্ববদ্যিালয়ের চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা। বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষকেরা নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দবি জানাচ্ছে। একই সাথে বাণিজ্য রোধে করে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যথায় উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। বিজ্ঞ মহলের দাবি, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। এই পেশাকে কলঙ্কিত যারা করেছে তাদের ছাড় দেওয়া মানে মহান পেশায় চপেট আঘাত করা। জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দশটি বিভাগে ৩৭জন শিক্ষক নিয়োগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এই নিয়োগের প্রায় শতভাগ প্রার্থীই টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, মেধাই একমাত্র মানদন্ড হচ্ছে না, নিয়োগের জন্য টাকাই প্রধান। টাকা হলে মেধার ঘাটতি পুশিয়ে যাচ্ছে। এমন একটা ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আর মূলত এই কারণেই নিয়োগ প্রত্যাশীরাও টাকা নিয়ে ঘুড়াঘুড়ি করে।

দেশব্যাপী সমালোচিত ইবির নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য শিক্ষক।

মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘কাজ করতে গেলে সমালোচনা হয়। সুযোগ সন্ধানীরা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবেই। সে ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরো সর্তকতার সাথে এগুতে হবে। সমালোচকদের উচিৎ পাশে থেকে যে কোন অনিয়োমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। ভালো মানুষগুলো প্রশাসনের পাশ থেকে সড়ে দাঁড়ালে অসৎ, ধান্দাবাজ, চাটুকাররা সেই যায়গা দখল দেয়। স্থান শূন্য পড়ে থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘ইবি প্রশাসনকে অনুরোধ করব, অনিয়মের প্রশ্নে নো কম্প্রমাইজ। গুটিকয়েকের জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানী মেনে নেওয়া যায় না।’

শাপলা ফোরামের সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ব্যক্তি বিশেষে বিচার হেরফের হলে অপরাধ বৃদ্ধি পায়। কর্তা ব্যক্তিরা যদি মনে করেন যে, চলমান নিয়োগে কি-কেমন হয়েছে তা কেউই জানে না তবে সেটা ভুল হবে। আমি বলব- প্রকাশিত অপরাধকে গুরুত্বসহ বিচার করুন। অপ্রকাশিত অপরাধ থাকলে তা এখনই থামিয়ে দিন। এইভাবে সামনের দিকে এগুতে থাকলে অবশ্যই এই ক্যাম্পাসের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।’

স্যার, অনেকেই বলছেন, ‘প্রগতিশীল শিক্ষকদের মধ্যে সৎ এবং দক্ষ্য বড় একটি অংশ প্রশাসন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে’ আপনি এই বিষয়ে কি বলবেন? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল বলেন, ‘ব্যক্তিত্য সম্পন্ন শিক্ষকেরা প্রশাসনের চাটুকারিতা করেন না। প্রশাসনের প্রয়োজনে যথাযথ সম্মানের সাথে তাদের ডাকা হলে ন্যায় সঙ্গত সকল ক্ষেত্রে কাজ করে থাকেন তারা।’

প্রফেসর ড. নজিবুল হক বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কোনো কাজে নিজ দলীয় বা রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মত প্রশনকারী কেউ সামান্যতম বাধা প্রদান করতে দেখা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় এই বৃহৎ নিয়োগ বাণিজ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে কর্তা ব্যক্তি অথবা কর্তা ব্যক্তিদের আসপাশের লোকগুলো সুযোগ সন্ধানী। দতন্ত কমিটি গঠন এবং এনিয়ে সমালোচনা দেখে মনে হচ্ছে না প্রশাসনের সদিচ্ছা আছে। কতিপয় চাটুকার, কালপ্রিটের, নিয়োগ বাণিজ্যের হোতাদের জন্য পুরো শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক আমরা মেনে নিব না। অপরাধীদের সনাক্ত করে বিচারের আওয়া নিয়ে আসুন।’

টুরিজম এন্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরেফিন বলেন, ‘অপরাধীকে চিহ্নিত না করলে পুরো শিক্ষক সমাজের উপর কালিমা লেপোন হবে। প্রশাসনে চোখ খোলার চূড়ান্ত মুহুর্ত এটি। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন অনিয়মে জড়িত হচ্ছে তখন আরেক বার ভেবে দেখতে হবে। এখনই যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে অপরাধ প্রবণতা আরো বেশি ছড়িয়ে পড়বে।’ তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বের প্রশাসন থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় এসেছে। পূর্বের প্রশাসনের সাথে যে সকল চাটুকাররা কাজ করেছে, ফায়দা নিয়ে শেষে তারাই বিগত প্রশাসনকে বিপদে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানেও তারা ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত।’

সাইফুল্লাহ হিমেল