বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই জন আহত হয়েছেন।

আহত দুই জন হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম আগারওয়াল। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম একই বিভাগের এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছে।

বিষয়টি নিয়ে একই বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর রহমান তুষার তরিকুলকে বেশ কয়েকবার বোঝায়। বুধবার আবারও উত্যক্ত করলে তুষার বাঁধা দেয়।

পরে বিকেলে তরিকুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা তুষারকে মারধর করে। এই ঘটনার জের ধরে সন্ধার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তুষার কিবরিয়া গ্রুপের অনুসারীরা সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের অনুসারী সাবেক সহ-সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম আগারওয়ালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ডানহাতে ও পিঠে কুপিয়ে আহত করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের সামনে একই গ্রুপের অনুসারী ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফাকে পিটিয়ে আহত করে। আহত দুইজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাত নয়টার দিকে রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিয়া ক্যাম্পাসে পৌঁছে হ্যান্ড মাইকে ছাত্রলীগ কর্মীদের শান্ত থাকার আহবান জানান। এছাড়াও অবৈধ অস্ত্রের মহড়াসহ যে কোন ধরনের বে-আইনি কাজ করলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য বিশ্বিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলামকে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিয়া বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি’।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়াকে কল দেওয়া হলে তারও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ইভান/এএস