রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক(সম্মান)শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়েছে। ‘এ’ ইউনিটের বিজোড় রোল নম্বরের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ পরীক্ষা। চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিটি ইউনিটের পরীক্ষা দুই শিফটে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের(আইন)প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী,বিভিন্ন ভর্তি কোচিং সেন্টার ও সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন বলে জানা গেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সূত্র থেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার দুপুর একটা থেকে দুইটা ও বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত দুই শিফটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে একাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ‘বি’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ করেছেন।
লালমনিরহাট থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই শিক্ষার্থী বলেন, “এলাকার এক বড় ভাই আমাদেরকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ‘বি’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা বলেছেন। টাকা দিলে তিনি ক্যাম্পাসের এক ছাত্রনেতার মাধ্যমে আমাদেরকে প্রশ্নপত্র দেবেন বলে জানিয়েছেন।”
অভিযোগ রয়েছে,সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাহায্য নিয়ে ভর্তি প্ররীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে যাচ্ছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকেন তারা।
জানা গেছে,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিভাগের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল একাধিক চক্র। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত কয়েক বছরে পরীক্ষা চলাকালীন বা তার আগেই এমন একাধিক চক্রকে আটক করতে পারলেও ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি।
গত ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে জালিয়াতি চক্রের ১৫ জনকে আটক করা হয়। একইভাবে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে সাতজন ধরা পরে। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে কৃষি অনুষদের উত্তরপত্র বাছাইয়ের সময় তিন জনকে আটক করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ওই সময় রাবির আরও দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা জানান,কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন।
এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে আমরা নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাইনি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগটি নিতান্তই গুজব।”
প্রসঙ্গত, এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের আওতায় ৪৯টি বিষয়ে তিন হাজার ছয়শ আসনে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
শিক্ষা
রাবিতে ‘বি’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক(সম্মান)শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়েছে। ‘এ’ ইউনিটের বিজোড় রোল নম্বরের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ পরীক্ষা। চলবে ২৭ জানুয়ারি





