একের পর এক ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের’জন্মদিয়ে ফের আলোচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা। তার পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাবি ক্যাম্পাস।
অন্যদিকে, বারবার বিতর্কের জন্মদিলেও এখনও পর্যন্ত কোন ঘটনারই তদন্ত হয়নি। এক অজানা কারণেই নীরব থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গত ২৫ এপ্রিল হরতাল পালনকালে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশী হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রক্টরের মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য ও সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা।
টানা সাতদিন ধরে অবরোধ, বিক্ষোভ, ধর্মঘট, কালো ব্যাজ ধারণ ও মৌন মিছিল সহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর আগেও তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বাম ছাত্র সংগঠন সহ বামপন্থী শিক্ষক ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ মে শিক্ষার্থীদের উপর ভিলেজ লাইন পরিবহন শ্রমিকদের হামলার ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ এনে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে প্রক্টর অফিস তালাবদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ। চারদিন পর প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তালা খুলে দেয় তারা। কিন্তু সে সময় ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরে থাক তদন্ত কমিটিই গঠিত হয়নি।
গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ফার্মেসি বিভাগের রজতজয়ন্তিতে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুঠোফোনে ছাত্রলীগের এক নেতাকে ফার্মেসী বিভাগের সভাপতিকে আটকে রাখতে উসকানি দেন প্রক্টর। পরে এ ঘটনার অডিও ক্লিপ ফাঁস হলে ব্যাপক তোলপার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষকরা তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হলেও কোন তদন্ত করেনি প্রশাসন।
একই বছরের পহেলা বৈশাখে উপজাতি শিক্ষার্থীর উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকেই নাজেহাল করার অভিযোগ উঠে প্রক্টরের বিরোদ্ধে। এতে তার পদত্যাগ চান শিক্ষক- শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ।
সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্যের ডাকা আধাবেলা হরতাল পালনকালে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক আবরোধ করলে প্রক্টরের ইন্ধনেই পুলিশ তাদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এতে ১৮ জন আহত এবং ১২ জনকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এসময় শিক্ষার্থীরা যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রান্তিক গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রক্টরের ‘মদদ দেওয়া ও দায়িত্বে আবহেলার’অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে আভিযোগ রয়েছে প্রক্টর উপাচার্যের কাছের লোক হওয়ায় তিনিই প্রশাসনকে অনেকটা নিয়ত্রণ করে থাকেন। ফলে তার বিরোদ্ধে উঠা কোন অভিযোগেরই তদন্ত হয় না এবং বারবারই তিনি রেহাই পেয়ে যান।
শিক্ষক মঞ্চের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, পুলিশি হামলার সময় প্রক্টর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার উচিত নৈতিক জায়গা থেকে নিজের সম্মান রক্ষা করে পদ থেকে সরে দাঁড়ানো।
এর আগেও তিনি এরকম ঘটনার জন্মদিয়েছিলেন তখন আমরা তার পদত্যাগ চেয়েছিলাম। এরকম ঘটনার জন্য প্রশাসনের অপতৎপরতাকেই দায়ী করেন তিনি।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল বলেন, প্রক্টরের সবুজ সংকেত ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এরকম হামলা সম্ভব না। হামলার আগ মুহূর্তে তার ঘটনাস্থল ত্যাগ করা ও গেট বন্ধ করে দেয়া তার মদদ দেওয়ার ইঙ্গিতই বহন করে। আমাদের দাবি মেনে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হব বলেও হুঁশিয়ারি করেন তিনি।
প্রক্টরের বিরোদ্ধে উঠা এসব আভিযোগ সম্পর্কে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২ মে সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্তের পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআইএস





