দু’ছাত্র নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায়কে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড.বলরাম রায়।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যায়ে দু’ছাত্র হত্যার ঘটনার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত ছাত্র অরুন কান্তি রায়, এসএম জাহিদ হাসান ও ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলের নেতৃত্বে ৩টি মাইক্রোবাসযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী সশস্ত্র অবস্থায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং কমান্ডো স্টাইলে ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পর মুখোশ পরে গুলি বর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিভীষিকাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এ সময় তারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। এ হামলায় প্রফেসর ড.ফজলুল হকসহ ২০ জন আহতন হয়। পরবর্তীতে তারা ছাত্রদের আবাসিক হলে প্রবেশ করে কক্ষ ভাঙচুর ও শিক্ষার্থীদের মারধর করে। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে কয়েকজন লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কিছু বহিস্কৃত ছাত্র আহত হয়। পরর্বতীতে আহাদের মধ্যে দু’জন মারা যায়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটিকে সহায়তা ও দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড.বলরাম রায় ছাড়াও ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আনিস খান, প্রফেসর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ.টি.এম শফিকুল ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড.মো. শাহাদাত হোসেন খান লিখন,প্রফেসর মিজানুর রহমান, প্রফেসর ফজলুর রহমান, প্রফেসর হারুন -উর-রশিসহ অন্যরা।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ এপ্রিল বৃহস্পাতিবার রাতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২ জন ছাত্র নিহত হন। আহত হন শিক্ষকসহ আরও ১০ জন।

এএইচ