শিগগিরই আরো দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। এগুলো হচ্ছে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রামে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ফর ওম্যান। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হচ্ছেন আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতাসীন জোটের নেতা, সরকারপন্থী শিক্ষক নেতা ও ব্যবসায়ী।
বর্তমানে দেশে ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যারমধ্যে ৫৫টি রাজধানীতে। এছাড়া চট্টগ্রামে আছে নয়টি, সিলেটে চারটি, রাজশাহীতে দুটি ও খুলনায় আছে দুটি। অন্য ২১টি রয়েছে ১৪টি জেলায়। এদের বেশিরভাগের উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জানা গেছে, রংপুর সার্কিট হাউস রোডের নাহার ম্যানসনে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন মোতাহার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ বণিক ও শিল্প সমিতির (এফবিসিসিআই) সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী (বাবু)।
এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানসহ সরকার সমর্থিত একাধিক ব্যবসায়ী নেতা রয়েছেন। অপর বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন চেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। চট্টগ্রামের চকোরিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ফর ওম্যান নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও একাধিক ব্যবসায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে, ব্যবসা ভালো হবে, সেসব স্থানে অনুমোদন চেয়ে আরো শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন জমা পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতাসীন জোটের নেতা, সরকারপন্থী শিক্ষক নেতা, ব্যবসায়ী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। কোনো কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান একাধিক স্থানে একাধিক নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও আবেদন করেছে। নতুন এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দুটির অনুমোদন দিতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইউজিসির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন চলতি মাসে এ দুই বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবে ইউজিসির পরিদর্শক দল। এ ছাড়াও অন্যটির সময় নির্ধারণ করা না হলেও চলতি মাসের মধ্যেই পরিদর্শন কাজ শেষ হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ আছে, একশ্রেণীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধে চলছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য। নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক শাখা-প্রশাখা খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। টাকার বিনিময়ে দিচ্ছে উচ্চতর ডিগ্রি আর সার্টিফিকেট। কয়েকটিতে বোর্ড অব ট্রাস্টিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সুস্পষ্ট বেতনকাঠামো নেই। অনেকের মানসম্মত ল্যাবরেটরি ও গবেষণাগার নেই।
কিছুদিন আগেও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় ও এর সব শাখা ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইতিপূর্বে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিয়মের কারণে সরকার বন্ধ ঘোষণা করলেও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চলছে। কতগুলোর মালিকানা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। সম্প্রতি এ রকম মামলা-মোকদ্দমা, মালিকানায় দ্বন্দ্বসহ নানা সমস্যায় থাকা বেসরকারি ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
ইউজিসি বলছে, কেউ অননুমোদিত কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাসে প্রোগ্রাম বা কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইবাইস ইউনিভার্সিটিতে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা আছে। সরকার বন্ধ করলেও আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে চলছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ও কুইন্স ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে কুইন্সকে এক বছরের জন্য সাময়িকভাবে শর্তসাপেক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হলেও তারা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এ টিতে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে মামলা চলছে। অননুমোদিত ক্যাম্পাস চালাচ্ছে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং।
এর মধ্যে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে। এ ছাড়া বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব^ ও আদালতে মামলা বিচারাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইবাইস ছাড়াও আছে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি অনুমোদন পেলেও শিক্ষা কার্যক্রম বা ভর্তির অনুমতি দেয়া হয়নি।
এগুলো হলো কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ঢাকা, কেরানীগঞ্জের রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের রূপায়ণ এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি।
এমএ





