বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশ, শিক্ষক, ছাত্র ও এলাকাবাসীসহ ২৭ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ প্রায় ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রংপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির মহানগর কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা দ্য রিপোর্টকে জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের অনশনের বিষয়ে সোমবার বিকেলে বেরোবি শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বেরোবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অনশনস্থলে তিনি ও কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক মোজাহার, কারমাইকেল কলেজের সাবেক ভিপি আলাউদ্দিনসহ রংপুর নগরীর বেশ কয়েকজন কথা বলার এক পর্যায়ে অনশনস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষক।
তারা এসেই এলাকাবাসীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা অনশন ভাঙবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরই এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকাবাসী বেশ কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর ও কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন।
এরপর এলাকাবাসী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে প্রায় ১০-১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে।
পুলিশের রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিবুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, শিক্ষক শামছুল হক ও অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহজাহানের অবস্থা গুরুতর। পুলিশের টিয়ারশেলে আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফি দ্য রিপোর্টকে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় চার পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী দ্য রিপোর্টকে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। তিনি জানান, আগের কথামত অনশন ভাঙাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির লোকজনের সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটার এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে।
ইআর





