ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে ১১ বতল ফেন্সিডিল এবং তিনটি চাপাতি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় লালন শাহ হল থেকে প্রক্টরিয়াল বডি এগুলো উদ্ধার করে।

এসময় একজন বহিরাগতসহ দুই জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে প্রক্টরিয়াল বডি। এদিকে ফেন্সিডিল ও অস্ত্র উদ্ধারের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যপক ভাংচুর এবং ১১টি ককটেল ফাটিয়েছে ছাত্রলীগ।

প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গোপন সংবাদতে ভিত্তিতে লালন শাহ হলে আসে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এসময় হলের পেছন ব্লকের নিচতলায় (শিক্ষক কোয়াটার হিসেবে তৈরীকৃত) বেশ কয়েকটি রুমে অভিযান চালায়।

অভিযানে তিনটি চাপাতি এবং ১১ বতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেন তারা। এসময় সেখান থেকে ডানিয়েল নামে এক বহিরাগতসহ তিনজকে আটক করা হয়। পরে গাড়িতে উঠার সময় একজনকে ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, ফেন্সিডিল এবং আটককৃতদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর পুলিশ ফোর্স নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডি আবারো লালন শাহ হলের সামনে আসলে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রক্টরকে ধাওয়া দেয়। এসময় আটককৃতদের নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে প্রক্টর। আটককৃতদের ইবি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়তই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জনালেও ইবি ছাত্রলীগ মাদক ও সন্ত্রাসের পক্ষে স্পস্ট অবস্থান নিয়েছে। অস্ত্র এবং ফেন্সিডিল উদ্ধারের প্রতিবাদে প্রক্টরের পদত্যাগের স্লোগানে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করে তোলে ছাত্রলীগ। প্রক্টরের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, হই হই রই রই প্রক্টর গেলি কই, মাহবুবুবের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, ছত্রলীগের অ্যাকশন ডইরেক অ্যাকশন, ইত্যাদি স্লোগানে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

মিছলের সময় উত্তেজিত ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিল লাঠি মিছিলে পরিণত হয়। তারা লাঠি দিয়ে টিএসসিসির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর করে। প্রধান ফটকের গেটসহ সমাবর্তনে স্থাপন করা স্বাগতম সাইনবোর্ডগুলো ভেঙে ফেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

ঘটনার পর থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। মিছিল শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে টিএসসিসি এলাকায় পরপর ১৩টি ককটেলের বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। তবে অভিযানে কোন ককটেল পাইনি প্রশাসন। তারপরেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ভীতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি প্রতিটি হলেই প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক রয়েছে।

জানা যায় লালন শাহ হলসহ সকল আবাসিক হল ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। হলের অধিকাংশ সিটেই অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে এবং হলে কোন সাধারণ শিক্ষার্থী থাকে না। এতে হল প্রশাসন হলে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না। এ সুযোগে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হলে অবস্থান করে দাপটের সাথে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, মদ, গাজাসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদ্ক দ্রবের ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে দিন দিন ক্যাম্পাসে মাদক সেবী শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লালন শাহ হলে দায়িত্বরত আনসার সদদ্য জানান, ‘আসরের আজানের একটু পরে প্রক্টর এসে ৩২৮ নম্বর রুমের শিক্ষার্থী শিহাবকে ডেকে আনতে বলেন। আমি গিয়ে রুম বন্ধ পাই। পরে প্রক্টর স্যার আমাকে নিয়ে আবারো ৩২৮ নং রুমে যায়।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, ‘ক্যাম্পাস প্রশাসন ৯ বোতল ফেন্সিডিল এবং তিনটি চাপাতিসহ একজনকে ইবি থানায় হস্তান্তর করেছে। এঘটনায় নিয়মিত আইনে মামলা হবে।’

হিমেল/জেড