ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলের ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাতজন ক্যান্টিন বয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ওই ক্যান্টিনের খাওয়ার পরপরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এর মধ্যে অসুস্থ সাতজন ক্যান্টিন বয় বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের চিকিৎসা গ্রহণের টিকিট এবং ব্যবস্থাপত্র দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এএমএম পরাগ (২য় বর্ষ) ও মনোয়ার (২য় বর্ষ)।

অসুস্থ হয়ে যাওয়া অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কাউসার আহমেদ টিটু (২য় বর্ষ), সজীব (৪র্থ বর্ষ), মামুন (৪র্থ বর্ষ), কামরুল হুদা সাবু (২য় বর্ষ) প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জসীমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ব্যাপারটি আমি শুনেছি। তবে ঠিক কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তা জানার জন্য হলের কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অসুস্থ হওয়ার ব্যাপারে হল তত্ত্বাবধায়ক ও ক্যান্টিন পরিচালক পরস্পরকে দোষারোপ করছে। ক্যান্টিন পরিচালক মুনির জানান, পানির লাইনে সমস্যা থাকায় এ সমস্যা হয়েছে।

ক্যান্টিনে প্রতিদিনের খাবারের বাজার প্রতিদিনই করা হয়। পঁচা-বাসী খাবার রাখা হয় না বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে হলের শিক্ষার্থীরা তত্ত্বাবধায়ক আলমের কাছে পানির সমস্যার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পানির লাইনে কোনো সমস্যা নেই। নিয়মিত পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পাশাপাশি লাইনও চেক করা হয়।

জানা যায়, হলের শিক্ষার্থীদের জন্য পানির যে লাইন, আবাসিক শিক্ষকদের বাসায়ও একই লাইন। তাই পানির লাইনে সমস্যা হলে শিক্ষকদের বাসায়ও সমস্যা হওয়ার কথা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, আমাদের বাসার সবাই আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছেন। পানির লাইনে সমস্যা হলে আমাদেরও আক্রান্ত হওয়ার কথা।

তবে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই বৃহস্পতিবার রাতে হল ক্যান্টিনে খাবার খেয়েছেন। খাবার গ্রহণের পর থেকেই তাদের পেটে সমস্যা শুরু হয়।

এদিকে সরেজমিন হল ক্যান্টিন পরিদর্শণে দেখা যায়, ক্যান্টিনের রান্নাঘরের ঠিক পাশেই রয়েছে সেলুন এবং লন্ড্রির দোকান। যার ফলে কিচেনের পরিবেশ কিছুটা অস্বাস্থ্যকর।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যান্টিন রান্নাঘরের পাশ থেকে সেলুনটি সরানোর জন্য প্রভোস্ট স্যারের কাছে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিলেও, এখনও সেটি সরানোর ব্যবস্থা করেননি।

তবে হলের পানিতে আসলেই কোনো সমস্যা রয়েছে কি-না তা মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহায়তায় পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রভোস্ট রহমত উল্ল্যাহ।

এসএইচ/এমকে