রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) দুই নং গেটে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়তের নিশ্চয়তা চেয়ে ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আলী আহমেদ আলিফের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের প্রতিবাদে দশ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাদাত উল্লার উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নং গেটের সামনে বুধবার সকাল ১১ টার দিকে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববব্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে থেকে শুরু করে আগারগাঁও মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নেয়। এ সময় তাদের হাতে আর কত লাশ দরকার??? একটা ওভারব্রীজের জন্য?, রাজপথে মৃত্যুর মিছিলের দায় কার?, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, নিরাপদ সড়ক চাই, রাস্তায় মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে, আলিফ হত্যার বিচার চাই, প্রভৃতি প্রতিবাদ স্বরূপ স্লোগান সম্পর্কিত প্লেকার্ড ছিল।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শাদাত উল্লা, উপ উপাচার্য শহীদুর রশীদ ভুইয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে সেকেন্ড গেটে যাত্রী ছাউনি, ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে খুব শিগগিরই। এ ছাড়া নিহতদের পরিবারে যথোপযুক্ত ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেয়া ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনের পূর্বে প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিহত আলিফের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর ১০ দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য স্মারকলিপি পেশ করেন। দাবিগুলো হল- খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, দ্বিতীয় গেটে ফুট ওভার ব্রিজ ,বাসস্টপ, যাত্রী ছাউনি ও জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ, নিহতদের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, শাহিন ও আলিফের স্মৃতিসরুপ স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণ, ৫ টি রুটে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু করা প্রভূতি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টায় রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নং গেট এলাকার রাস্তার অপর পাশে ( পুরাতন বিমান বন্দরের নয় নং গেট এর সামনে ) পিছন থেকে আসা ‘বিহঙ্গ’ পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারায় আলী আহম্মেদ আলিফ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
কেএইচ





