ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বার অংশ নেয়ার সুযোগ থাকছে না শিক্ষার্থীদের। আজ মঙ্গলবার সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, সভার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জানান, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। কেবলমাত্র ওই বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। পুরোনো শিক্ষার্থীরা পারবেন না।

ভর্তিচ্ছু সব শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে উপচার্য বলেন, প্রতি বছর দ্বিতীয় দফায় ভর্তির চক্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ২০০ আসন ফাঁকা থাকে। সবাইকে সমান সুবিধা দেওয়া এবং আসন যাতে অপচয় নাহয় সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় ইংরেজি বিভাগে ভর্তির শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণ ইংরেজিতে ২০ নম্বর পেতে হত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের ১৮ নম্বর পেতে হবে।এ ছাড়া ঐচ্ছিক ইংরেজিতে পাস নম্বর ১৫ এর পরিবর্তে ৮ করা হয়েছে।

ইংরেজি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ‘খ’ ইউনিট থেকে আসন বরাদ্দ ছিল ১২৫টি। ওই ইউনিটে মোট আসন সংখ্যা ১৫০। তবে ১২৫ আসন পূরণ নাহলে ‘ঘ’ ইউনিট থেকে বাকি আসন পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীন ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় এ বছর ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন মাত্র দুজন। এরপরে ইংরেজিতে ভর্তির শর্ত শিথিল করা হলো।

উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরপর দুই বছর ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যেত। এক্ষেত্রেই অনেক শিক্ষার্থীই প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল করতে না পারলে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগাতেন।

আবার অনেক সময় আশানুরুপ বিভাগে ভর্তি হতে না পারলেও শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে কাঙ্খিত বিভাগে ভর্তির চেষ্টা করতেন।

কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে এখন ভর্তি হতে মাত্র একবারই সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। যেখানে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসনের চেয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েকগুন বেশি, সেখানে ঢাবি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত কতটা মেনে নেবেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কেবি