জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো অফিস বা আবাসিক এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল (০৬ নভেম্বর) বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার (০৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের দোকানপাটও বন্ধ করা হয়েছে। তাই এ সময়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো শিক্ষার্থীর অবস্থান সমীচীন নয়।

এতে আরও বলা হয়, যে কোনো অনাকাঙিক্ষত ঘটনা রোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এসে সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো অফিস বা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করতে পারবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ করার পরে সভা-সমাবেশ ও ক্যাম্পাসে প্রবেশে এমন নিষেধাজ্ঞাকে আন্দোলন দমানোর অপকৌশল হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলছেন, হল বন্ধের কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে এসে তারা আন্দোলন চালাবেন। এই কারণেই প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে প্রায় তিন মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গত ০৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে জাবি উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩৫ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার এক পর্যায়ে পুলিশের সামনেই আন্দোলনকারী শিক্ষদের লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলনকারীদের আমার বাসভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের পেছনে জামায়াত-শিবির রয়েছে। তারা কয়েক দিন ধরে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমি বের হতে পারিনি।

হামলায় আহত শিক্ষকরা হলেন- নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস, মীর্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ আরও কয়েকজন।

এমবি