কোটা সংস্কার আন্দোলনে গঠিত সাধারণ ছাত্র পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসানসহ ৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ২জন হলেন-তরিকুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও নাশকতার অভিযোগে শাহবাগ থানায় দায়ের করা ২ মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সুব্রত ঘোষ শুভ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মাহমুদুর রহমান বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহাউদ্দীন ফারুকী (পরিদর্শক, ডিবি পুলিশ) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার আবেদন করে আদালতে হাজির করেন।”

এর আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, “আমরা ৩ জন যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজ, ফারুক হাসান ও জসিম উদ্দিনের কোনও সন্ধান পাচ্ছি না।”তিনি দাবি করেন, “ফারুক হাসানকে মারধরের পর শহীদ মিনার থেকে ও জসিম উদ্দিনকে পাবলিক লাইব্রেরির ভেতর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাহফুজ নামের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ককে রাশেদ নামে এক কর্মীর বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, পুলিশ কাউকে আটকের কথাই স্বীকার করছে না।”

আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার  এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা মূল গেট ভেঙে ও দেয়াল টপকে বাসায় ঢোকে। তাদের হাতে রড, হকিস্টিক, লাঠি ও বাঁশ ছিল। এছাড়া বাসভবনের আশপাশেও একাধিক মোটরসাইকেলে তরা আগুন ধরিয়ে দেয়।

ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় (উপ-পরিদর্শক) রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। 

তুলে নেয়ার পর কোটা নেতা ফারুককে পাওয়া যাচ্ছে না  

খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোটা সংস্কার আন্দোলনে গঠিত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে। সোমবার (০২ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ চলার সময় ফারুককে তুলে শাহবাগ থানায় দিয়ে আসেন ছাত্রলীগের এক কর্মী। 

আজ (মঙ্গলবার) ফারুকের বড় ভাই মো. আরিফুল ইসলাম শাহবাগ, রমনা ও নিউমার্কেট থানায় গিয়ে তাঁর ভাইয়ের সন্ধান পাননি। শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়েছে, ফারুক হোসেন নামের কেউ সেখানে গ্রেফতার নেই।

গতকাল (সোমবার) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালায় এবং ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেনকে মোটরসাইকেলে করে তুলে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান ছাত্রলীগের এক কর্মী। 

আজ ফারুকের ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ভাইয়ের খোঁজে তিনি শাহবাগ, রমনা ও নিউমার্কেট থানায় যান। কিন্তু কোথাও পাননি। তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আল আমিন নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী তাঁকে জানান, তিনিই ফারুককে তুলে নিয়ে শাহবাগ থানায় দিয়ে আসেন। 

আজ সাংবাদিকরা আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফারুককে তিনি তাঁর মোটারবাইকে করে শাহবাগ থানায় দিয়ে এসেছিলেন।

ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে মহামারি অভিযোগ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ‘কোটা সংস্কার চাই’-এই ফেসবুক পেজ থেকে ‘সরকারবিরোধী’কথাবার্তা ছড়ানো হয়। যেহেতু ফারুক হোসেন ওই প্ল্যাটফর্মের যুগ্ম-আহ্বায়ক, তাই তিনিও দোষী।  

আজ ফারুকের বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

একপর্যায়ে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার রমজান হোসেন ফোন ধরে বলেন, থানায় ফারুক হোসেন নামের কেউ গ্রেফতার নেই। কোনো মামলাও নেই।  

এমবি