রাজধানীর জিগাতলায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা সেখানে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজ করছিল।  

আজ (শনিবার) বেলা ১টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রথম দফা হামলা করেছে এক দল যুবক। শিক্ষার্থীদের দাবি তারা স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন পুলিশ সদস্যরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা মাথায় হেলমেট পড়ে লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।  হামলার খবর পেয়ে সায়েন্স ল্যাব এলাকা থেকে আরও শিক্ষার্থী ওই এলাকায় গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলা ও সংঘর্ষ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

ফটো সংবাদিক শাহীন কাওসার ও রিপোর্টার সুদীপ অধিকারীও  আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের লাটির আঘাতে আহত হয়েছেন। ঘটনার পর হাজারো ছাত্র ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

এই ঘটনার পর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি সদরদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে ঘটনা ঘটনায় সেখানে থাকা বিজিবি সদস্যরা দুই পক্ষের মাঝে থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় গুলি শব্দও শোনা গেছে। কে বা কারা গুলি করেছে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে শনিবার (০৪ আগস্ট) মিরপুরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভে মেয়ে শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের উৎসাহিত করছেন।

সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিসিআইসি, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আবু তালেব উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এসময় তিনি হেসে হেসে এই বিষয়ে দায়ীদের শাস্তির কথা জানানোর পাশাপাশি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার তুলনা করেন।

পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের নেতা হিসেবে নৌমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে বাসের চালক ও হেলপাররা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে- এমন অভিযোগে শাজাহান খান হেসে হেসে বলেন, “আজকের বিষয়ের সঙ্গে এটি রিলেটেড নয়। মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হলেও কোনও হৈ চৈ হয় না। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কিছুতেই হই চই হয়।”

গত ২৯ জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী মারা গেলে তার সহপাঠীরা এর বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে। এরপর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা সেই আন্দোলনে যোগ দেয়।

এমবি