ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ফেরদৌসি একরাম ফৌসিয়া নামে এক স্কুলশিক্ষিকা। রাজধানীর ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে গণিত পড়াতেন তিনি। পরের দিন ৩ জুলাই মেয়ের সন্ধান চেয়ে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা শিক্ষক ইকরামুল্লাহ। এরপর পার হয়ে গেছে ১৫ দিন। রহস্যজনকভাবে স্কুল শিক্ষিকা নিখোঁজ হওয়ার খবরে বিব্রত স্কুল কর্তৃপক্ষ।

কলাবাগান থানার জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ফেরদৌসি। ২ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বের হন। বলে যান, এক ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তিনি। মোবাইল ফোনটি সঙ্গে না নেয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগের সব পথও বন্ধ। স্বজনদের বাসায় খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার মনে করছে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, ‘জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলুর রহমানকে।’

কথা হয় নিখোঁজ শিক্ষিকার পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তারা মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেদককে জানান, ফেরদৌসি একরাম ফৌসিয়া ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল শেষ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গণিত বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। তার বাবা ইকরামুল্লাহও ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক। চার মেয়ে, এক ছেলের মধ্যে ফেরদৌসি দ্বিতীয়। ফেরদৌসির এক বোনও সেখানকার খণ্ডকালীন শিক্ষক। কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, ফেরদৌসি নিখোঁজ হওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নিখোঁজ হওয়ার তথ্য গোপন রেখেছিল তার পরিবার। শুরুতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছিল। দুই-তিন দিন পর তারা বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান।’ স্কুলের তত্ত্বাবধায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। আশা করছি, তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। ফেরদৌসিকে শান্ত স্বভাবের উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে তিনি মাত্র চার দিন ছুটি কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদের পর ৩ জুলাই স্কুল খুললে ওইদিন ফেরদৌসি স্কুলে আসেননি।

জারিফ