আবাসিক হল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইবি শাখা ছাত্রলীগ। ঘটনাকে প্রশাসনের সাজানো নাটক দাবি করছে ছাত্রলীগ। এদিকে মঙ্গলবার সন্ধায় ছত্রলীগ কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ নিয়েও বিপরীত মুখী অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন ও ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসকে অস্ত্র ও মাদক মুক্ত রাখার জন্য দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের পক্ষথেকে দাবি করা হয়েছে, ছাত্রলীগকে বাগে আনতে প্রশাসন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র সাজিয়েছে। ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের নামে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে হামলার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি মুর‌্যালে কোন ইট-পাটকেল নিক্ষেপ হয়নি। প্রশাসনের দাবি মিথ্যা দাবি করে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিও দেওয়া হয়। তবে প্রশাসন বলছে তাদের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেস আছে।

ইবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বল হয়, ক্যাম্পাসে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে কমলমতি শিক্ষার্থীদের ধংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে প্রায় অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ এবং বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে আঘাত করে ক্যাম্পাসের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার যে চেষ্টা করা হয়েছে তা ঘৃণ্য। এর সাথে জড়িত কর্মীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। এদিকে মুর‌্যালে আঘাতকারীদের বিচারের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাপলা ফোরাম, ইবি কর্মকর্তা ও কর্মচারি সমিতি।

ঘটনা তদন্তে প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে ইবি প্রশাসন। কমিটির অন্য দুইজন সদস্য, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. আশারাফুল আলম এবং বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান।

মঙ্গলবার অভিযানের সময় লালন শাহ হলের যে রুম থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে ফেন্সিডিলের আরো অনেক খালি বোতল ছিল। যা দেখে মনে হয়েছে এখানে দীর্ঘ দিন থেকে মাদক সেবন হয়। বুধবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এমনটাই দাবি করেছেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান।

সাইফুল্লাহ হিমেল/এসএম