যখন শিবিরের গুপ্ত হামলায় উদিয়মান নেতাকর্মীরা পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, ঠিক তখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দে বিভক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেশ কিছুদিন ধরে তা দৃশ্যমান হলেও বুধবার তা চরম আকার ধারণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে এ বিভক্তি আরো স্পষ্ট হয়েছে।
এ সভায় রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের পরস্পর বিরোধী কথাবার্তায় বিরক্ত হয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এসময় তারা নেতাকর্মীদের সাথে সভা শেষ না করেই বেরিয়ে আসেন বলে ছাত্রলীগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গত ২৯ এপ্রিল মাসুদ ও টগরের ওপর হামলার পরদিন বিক্ষোভ মিছিল ছাড়া ক্যাম্পাসে আগের মত অবস্থান করতে দেখা যায়নি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে অবস্থান করা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাসে আসেন।
এ কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ উদ্দীপনা দেখা যায়। তবে বর্ধিত সভায় এ ধরণের ঘটনায় আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও নাজমুল ক্যাম্পাসে এলে প্রায় দুই থেকে তিনশত নেতাকর্মী স্লোগান দিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানায়। এরপর একটি মিছিল নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনের ফোকলোর গ্যালারীতে যায়।
সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পদধারী নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় এ দুই নেতা বর্ধিত সভার এক বৈঠকে বসে। বৈঠকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের কাছে জানতে চায় কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহাগ। এসময় রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার সমর্থক ও সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনের সমর্থকরা একে অন্যের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এক পর্যায়ে কোন কথা বার্তা ছাড়াই সভাকক্ষ হতে বেরিয়ে যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
এসময় কেন্দ্রীয় নেতাদের বেরিয়ে যাবার সময় রাবি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শ্লোগান বা সন্তোষজনক মনোভাব প্রকাশ পরিলক্ষিত হয়নি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, “গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকে হল পরিবর্তন করতে হয়েছে। কেউ যদি সভাপতির সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ হয় তাকে সভাপতি গ্রুপের নেতা। আবার কেউ সাধারণ সম্পাদকের সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ হলে তাকে অপর গ্রুপের বলে প্রচার করে এ ধরণের বিভক্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
তিনি আরো জানান, “এসব ব্যাপার নিয়েই বর্ধিত সভায় বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই তারা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বের হয়ে যান।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদক ক্ষিপ্ত হয়ে বের হয়ে গেছেন এমন তথ্য সঠিক নয় বলে জানান।
তিনি বলেন, “আসলে আজ (বুধবার) আমাদের বর্ধিত সভা ছিল। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিল উপলক্ষে রাজশাহীতে অবস্থান করায় আমাদের সভায় যোগ দিয়েছিলেন।” তিনি আরো জানান, বর্ধিত সভায় সংগঠনের ভিতরের বিভিন্ন সমস্যা বা সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। এ সভায়ও তাই-ই হয়েছে।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ
[/b]
শিক্ষা
রাবিতে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দে কেন্দ্রীয় নেতাদের বর্ধিত সভা বর্জন
যখন শিবিরের গুপ্ত হামলায় উদিয়মান নেতাকর্মীরা পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, ঠিক তখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দে বিভক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেশ কিছুদিন ধরে তা দৃশ্যমান হলেও বুধবার তা চরম আকার ধারণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের





