ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উলফাত আরা তিন্নিকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজেদের দোতলা বাড়ির নিজ কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক ঝামেলার জের ধরে সাবেক দুলাভাই বাড়িতে এসে দুই দফায় হামলা চালিয়ে তাঁকে নির্যাতন করেন। পরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিন্নি ঝিনাইদহের জেলার শৈলকুপার শেখপাড়া গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর মেয়ে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ও বিএনসিসির সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিন্নি।

তিন্নির মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (০৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ দাবিতে মানববন্ধন করেন তাঁরা। তিন্নির সহপাঠীরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন মানববন্ধনে অংশ নেন।

তিন্নির এমন প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একজন সম্ভাবনাময়ী মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেননা তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা। ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানবন্ধনে অংশ নেন তাঁরা। মানবন্ধনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশ নেন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা ও এলাকাবাসী। তাঁরা একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যের সাথে ঘটা এই পাশবিক ঘটনার সঠিক বিচারের দাবি জানান।

তিন্নির স্বজনরাও এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। নিহতের চাচা হেলাল উদ্দিন জানান, তিন্নির বড় বোন মিন্নির একই গ্রামের নুরুদ্দীনের ছেলে শেখপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয়। সংসারে অশান্তি থাকায় প্রায় এক বছর হলো তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এ নিয়ে তিন্নির পরিবারের মাথে জামিরুলের ঝামেলা চলছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জামিরুল বেশ কয়েকজন নিয়ে তিন্নিদের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে তাঁরা ফিরে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবারও এসে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় থাকা তিন্নির ঘরে প্রবেশ করে তিন্নির উপর নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। পরে হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে যান তাঁরা।

হেলালের দাবি, তাঁর পা খাটের সঙ্গে লাগানো ছিল। এভাবে ঝুললে কেউ মারা যাবে না। তাঁকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ। সেইসাথে তিন্নির ময়না তদন্ত করেন তাঁরা। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি। পুলিশের ভাষ্য, তিন্নির মৃত্যু একটা রহস্যজনক ঘটনা। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে সঠিক ঘটনা জানা যাবে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিদেরকেও আটকের চেষ্টা চলছে।

মুনজুরুল