বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. শামীম বিল্লাহকে (২১) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনিসুর রহমান মোল্লা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামি শামীম বিল্লাহ ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে। সে বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র।

পুলিশ পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, “শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকালে ঢাকা থেকে আসা ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শামীম বিল্লাহকে ইছাকুড় গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পরপরই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, সম্পাদিত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত ৬ অক্টোবর (রোববার) রাত ৩টার দিকে খুন হন বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবরার। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড যারা সংঘটিত করেছিল এদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, মোহাজিদুর রহমানকে, শামসুল আরেফিন, মনিরুজ্জামান ও আকাশ হোসেন, মিজানুর রহমান (আবরারের রুমমেট), ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা এবং হোসেন মোহাম্মদ তোহা।

এমবি